স্টাফ রিপোর্টার :
মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও উন্নত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে” চট্টগ্রামে বটতলী সমাজ কল্যাণ পরিষদ-এর উদ্যোগে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবন সম্পূর্ণরূপে নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতির ঘোষণা দেন এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের সামাজিক ও আইনিভাবে বয়কট করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম জেলা ও ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর জনাব আবুল হাসেম বক্কর। তিনি মাদক নির্মূলে সরকারি ও সামাজিক সকল স্তর থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “অপরাধীদের সংশোধন হওয়ার জন্য সর্বশেষ দুই দিনের সময়সীমা (আল্টিমেটাম) দেওয়া হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বা সেবন বন্ধ না হলে জড়িতদের এলাকা, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং যেকোনো সামাজিক বা শুভ আচার-অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিষ্কার করা হবে।”
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আবু জায়েদ মো: নাজমুন নূর। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি অভিশাপ। মাদককে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা না গেলে তরুণদের ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়বে। তাই যুব সমাজকে বাঁচাতে সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক নির্মূলে কাজ করতে হবে। অত্র এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে বা যারা সেবন করে তাদের নাম লিস্ট করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। whatsapp গ্রুপ তৈরি করে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং সেবা বৃদ্ধি করা হবে।

এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মো: আইয়ুব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আহবায়ক, ২২নংএনায়েত বাজার ওয়াড বিএনপি জনাব আলী আব্বাস খান। তিনি বলেন, “মাদক নির্মূল ও এলাকার উন্নয়নে যা যা করণীয় তার সবই করা হবে। এই জনকল্যাণমূলক কাজে কেউ কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।২২নং এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জনাব আলহাজ্ব এম.এ মালেক বলেন, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক প্রতিরোধ করতে হবে সাথে সাথে এলাকার আরও অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। সাবেক ভারপ্রাপ্ত, সাধারণ সম্পাদক সেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর, আলী মুর্তজা খান বলেন, “মাদক নির্মূলের লড়াই আগে নিজ ঘর থেকে শুরু করতে হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যদি আপন ভাই বা রক্তের সম্পর্কের কেউ-ও হয়, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সভায় অন্যান্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো: আবু তৈয়ব এবং । এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলীমউল্লা ভোলা,মো: আলমগীর,ইব্রাহিম খা,আলী আশরাফ খান, মো: শফি,আলী হাসান খান,সাদেক,বকতিয়ার,হিরু,মো:ইমরান,মো:সামাদ,হায়দার, মিন্টু, আলী আক্কাস,ইমরান শরীফ,হাসান,সানি,আসিফ, জাকির, মামুন, ফয়সাল,জাহেদ, সাইফু,সালাম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সভায় অংশ নেন।