কে এম রাজীব :
আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি রোববার দীর্ঘ দুই দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি’র) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহাসমাবেশ। মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে প্রস্তুতি। সম্পন্ন হয়েছে সমাবেশ মঞ্চ। দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা। নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক মাইক ও সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহৃত হবে মাইক। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়ে মাঠে পানি ছিটানো হয়। সমবেত হতে দেখা যাচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা।
মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলার পক্ষ থেকে নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করছে।
সিএমপির ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রশিক্ষিত পাঁচটি বিদেশি কুকুর দিয়ে মঞ্চসহ আশপাশের পুরো এলাকা তল্লাশি চালানো হয় এবং পোশাকধারী ও সাদাপোশাক পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা যায় বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ (চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স)।
দলীয় সূত্র জানা যায় , তারেক রহমান শনিবার বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে রাতে হোটেল রেডিসন ব্লুতে অবস্থান করবেন এবং রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন।
এদিকে শনিবার দুপুরে মহাসমাবেশের প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি মাঠের সার্বিক অবস্থা, মঞ্চ স্থাপন, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মহাসমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামবাসীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান ডা.শাহাদাত হোসেন।
মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিধিনিষেধ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ( সিএমপি)। যেখানে উল্লেখ করেন,
জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি মহানগর এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট পাথর বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কোনো বস্তু প্রদর্শন বা প্ল্যাকার্ড বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।