বাংলাদেশ, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১ ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

চুল পড়া রোগ, প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা


প্রকাশের সময় :৭ জানুয়ারি, ২০২১ ৩:১৮ : অপরাহ্ণ

ডাঃ নুসরাত সুলতানাঃ

Alopecia (এলোপেশিয়া) মানে হলো এক ধরণের  চুল পড়া রোগ। Alopecia ৩ ধরণের হয়ে থাকে। যেমনঃ

1⃣এলোপেশিয়া এরিয়াটা (Alopecia areata) 

👉এই ক্ষেত্রে মাথার তালু, দাড়ি বা ভ্রু এর যে কোন এক বা একাধিক জায়গায় গুচ্ছাকারে গোল হয়ে চুল পড়ে যায়। চুল পড়া স্থানটি থাকে মসৃন। এলোপেশিয়া এরিয়াটা তে অনেক সময় নখের পরিবর্তন হতে পারে প্রাথমিক লক্ষ্মণ। এসময় পা ও হাতের নখে ছোট ছোট গর্ত (Pitting) ও খসখসে দাগ দেখা যায়। 

পড়ে যাওয়া চুল সাধারণত কয়েক মাসের ভিতর আবার গজায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই হেয়ার লস বা চুলের অনুপস্থিতি কয়েক মাস থেকে বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। 

👉কারণঃ 

এলোপেশিয়া এরিয়াটা ছোঁয়াচে কোন রোগ নয়। এটা কোন ইনফেকশন থেকেও হয়না। এটি একটি অটো ইমিউন রোগ। এক্ষেত্রে শরীরের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) চুলের গোড়ার ফলিকলকে(hair follicle) আক্রমণ করে এবং চুল পড়ে যায়। ব্যক্তির জিনগত গঠনই এর জন্য দায়ি। সাধারণত যে কোন সুস্থ মানুষেরই এলোপেশিয়া এরিয়াটা হতে পারে। যাদের এই রোগ হয়, তারা অন্যান্য অটো ইমিউন রোগের ঝুঁকিতেও থাকতে পারেন। যেমনঃ ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এর রোগ, শ্বেতি(Vitiligo), এজমা ইত্যাদি।

2⃣ এলোপেশিয়া টোটালিস (Alopecia totalis) এই ক্ষেত্রে পুরো মাথায় সব চুল পড়ে যায়।

3⃣ এলোপেশিয়া ইউনিভার্সালিস (Alopecia  Universalis) এ ক্ষেত্রে পুরো শরীরের সব চুল ও লোম (ভ্রু, চোখের পাপড়ি সহ) পড়ে যায়। 

💉💊 চিকিৎসাঃ

এলোপেশিয়া এরিয়াটা তে সাধারণত চুল নিজে নিজেই আবার কয়েক মাসের ভিতর গজায়। যদি তা না হয়, কিছু চিকিৎসা দেয়া যায়, যেমনঃ

১. কর্টিকোস্টেরয়েডঃ টপিকাল বা লাগানোর, ওরাল বা মুখে খাবার এবং ইন্ট্রালেশনাল বা আক্রান্ত জায়গায় ইঞ্জেকশন। 

২. মিনক্সিডিল ৫%

৩. এন্থ্রালিন

৪. ডাইফেনসাইপ্রোন 

৫. বায়োলজিক্স।।

পরামর্শেঃ
ডাঃ নুসরাত সুলতানা উর্মি
ক্লিনিক্যাল,কস্মেটিক ডার্মাটোলজিস্ট এন্ড লেজার স্পেশালিষ্ট।

ট্যাগ :