এম.এইচ মুরাদ:
চট্টগ্রামের পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে মা-বাবার দেয়া অভিযোগে স্ত্রী ও ছেলে কারাগারে থাকায় অপমানে আত্মহত্যা করেছে স্থানীয় স্কুলের এক দপ্তরী। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন (৩০) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নেজাম চরকানাই বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরী এবং চরকানাই গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র।
গত বৃহস্পতিবার নেজাম উদ্দীনের স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তান একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চরকানাই হাই স্কুলের শিক্ষক মো: আবদুল শুক্কুর জানান, একটি মামলায় নেজামের স্ত্রী গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়া মায়ের সঙ্গে আড়াই বছরের ছেলেকেও কারাগারে নেয়া হয়। মা ও ছেলে দুইজন কারাগারে থাকায় অপমানে ও ক্ষোভে ছেলের বাবা নেজাম উদ্দিন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশ্ববর্তীরা ঘরের দরজা খোলা দেখে ঘরে ঢুকে দেখতে পান নেজাম গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে পটিয়া থানা, কালারপুল পুলিশ পাড়ি ও স্থানীয় মেম্বার আবুল হাসেম রাব্বুর উপস্থিতিতে নিজামের নিজ ঘর হতে লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নেজামের পরিবারে চলছিল তীব্র অশান্তি। নেজামের মা এবং স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা ছিল না। ফলে স্ত্রীর সঙ্গে তালাক দেওয়ার জন্য নেজামের ওপর তার বাবা-মা চাপ দিতে থাকে।
কয়েক দিন আগে, এই পারিবারিক কলহ মারামারিতে রূপ নেয়। ফলে নেজামের মা আহত হন। পরে তিনি পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গত বৃহস্পতিবার এই মামলায় নেজামের জামিন হলেও, তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। শুধু স্ত্রী নয়, তাদের আড়াই বছরের পুত্রসন্তানও মা’র সঙ্গে কারাগারে যায়। স্ত্রী এবং সন্তানকে কারাগারে দেখে নেজাম অপমানিত হয়ে শুক্রবার রাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি নুরুজ্জমান জানান,‘নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কি কারনে আত্মহত্যা করেছেন বা অন্য কোন বিষয় আছে কিনা তা এই মূহুর্তে সঠিক বলা যাচ্ছে না, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে’।