আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সাংগ্রি-লা হোটেলে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূস ও মোদির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারা আধা ঘণ্টার বেশি সময় কথা বলেন।
এরপর এই বৈঠক নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সময় মোদি বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
তিনি আরও জানান, এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের আকাঙ্খার কথাও জানিয়েছেন। এসবের পাশাপাশি ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিক্রম মিশ্রি।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রফেসর ইউনূসকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরির আকাঙ্খার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া (দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে) এমন কথাবার্তা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
দুই নেতার মধ্যে সীমান্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেছেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্তে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো জরুরি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি)।’
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে। তবে হাসিনার প্রত্যর্পণের ব্যাপারে এ মুহূর্তে এরচেয়ে বেশি বলা তার জন্য ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় এই কূটনীতিক।
এদিকে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শুক্রবার দুপুরে ওই বৈঠকের পর এ তথ্য জানান।
শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।’
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের পর এই প্রথম অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার মধ্যে এই বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস