বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে নানা আয়োজনে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত


প্রকাশের সময় :২৫ মার্চ, ২০২২ ৫:৪১ : অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যৌথ উদ্যোগে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় গণহত্যা দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় ভিসি চত্বরস্থ স্মৃতি চিরন্তনে মোমবাতি প্রজ্বলন, শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, ২৫ মার্চ কালরাতের বীভৎস ইতিহাসের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, মহান এই স্বাধীনতার মাসে বিশেষ করে ২৫ মার্চ কালরাতে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের সকলকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। এই মহান মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও তার ঠিক চার দিন পরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ; এই দু’টি ঘটনাই মূলত পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিল।

২৫ মার্চের ইতিহাস প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনও স্থাপত্য ছিল না যেটা সেদিন আক্তান্ত হয়নি। এমনকি কলাভবনের সামনের ঐতিহাসিক বটতলায়ও হামলা হয়েছিল। একটি বটগাছও উপড়ে ফেলেছিল তারা। এটাই প্রমাণ করে, তাদের আদর্শ ছিল আগাগোড়া সাম্প্রদায়িক। তাদের ধর্ম এবং রাজনীতি দু’টোই ছিল কলুষিত। তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসই হলো জেনোসাইড বা গণহত্যা কেন্দ্র। এই ক্যাম্পাস থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানি অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো তার দেখানো পথে তার চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সামনে এগিয়ে যাওয়া। যা তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা খুব ভালোভাবেই করছেন।

প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, এদিন বিডিআরের সদর দফতর ও পুলিশের সদর দফতরে হামলা হয়েছিল। ঢাবির ওপর হামলা করে প্রকৃতপক্ষে এ জাতিকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে জাতির পিতাকে হত্যা করার পর এদেশে আসল মানুষকে নকল করা আর নকল মানুষকে আসল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

কালরাতে যারা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রফেসর রহমত উল্লাহ।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ট্রেজারার প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম গোলাম রব্বানী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. নিজামুল হক ভুঁইয়াসহ আরও অনেকে।

রাত ৯টায় জগন্নাথ হলে মোমবাতি প্রজ্বলন করে এক মিনিট নিরবতা পালন ও গণহত্যায় শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।

ট্যাগ :