বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

চ্যালেঞ্জিং শহরে মেয়র নির্বাচন!!


প্রকাশের সময় :৫ জানুয়ারি, ২০২০ ৩:১০ : পূর্বাহ্ণ

এম.এইচ মুরাদ:

আবার মেয়রের নমিনেশন, আবার নতুন ইশতেহার, টার্গেট, বাজেট সবকিছুই! নির্বাচন আসে নির্বাচন যায় কাজের পরিকল্পনা হয়; কিন্তু বাস্তবায়নে গিয়েই যত সমস্যা! আমাদের সামনে অনেক কাজ। লেখাটিতে কতগুলো প্রশ্ন আমি করেছি সেগুলোর উত্তরেই আসতে পারে কেবল ঢাকার মতো বড় একটি জনবহুল শহরে কিছুটা শান্তির সুবাতাস, নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য!

প্রশ্নগুলো হলো- ডেঙ্গু দমনের বিষয়ে আসলে আমরা কতটুকু আশাবাদী ভূমিকা দেখতে পারব? এখনও শহরের কোনো টেকসই উন্নয়নের টার্গেট পূরণের দিকে আমরা যেতে পারছি না। তার কী হবে?

শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো কাজই এখনও হলো না। তার কী হবে?

সবুজ শহর প্রাপ্তির জন্য এখনও কোনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। তার কী হবে? ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা মানে শুধু ওয়াসার পানি তুলে তা সরবরাহ করে দেবে, তা কিন্তু নয়। বৃষ্টির পানির সংরক্ষণ, পানির কয়েকবার ব্যবহার নিশ্চিত করা, টয়লেটের ফ্লাসের পানি গোসলের পানির মাধ্যমে রিসাইকেল- এগুলো ভাবনার মানুষ কে?

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে অনেক মহড়া বা কাজ হচ্ছে কিন্তু সিলিন্ডারগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বোমায় পরিণত হচ্ছে তার ব্যাপারে নীতিমালার প্রয়োগ করবে কে?

বিল্ডিং কোডের অডিটিং ব্যবস্থা কি রাজউক এখনও গতিশীল রেখেছে নাকি তা লোক দেখানো কর্মকাণ্ডই ছিল বনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর?
শহর কি আদৌ শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ মুক্ত হবে এবং তার জন্য পরিকল্পনার কতদূর?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হবে?

নদী ও খালগুলোকে স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে মিউনিসিপালিটি কি এসটিপি প্ল্যান করবে, ইটিপি বাধ্যতামূলক হবে কি হাসপাতালের জন্য নাকি এখনও এ বিষয়ে কোনো চিন্তা আনা হয়নি?

ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য পদার্থ, গাড়ির বর্জ্য পদার্থ গ্রহণ করার জন্য সিটিগুলোর কি আলাদা ভাগাড় করার পরিকল্পনা আছে এখনও? রাতে আলোর ব্যবহার কমিয়ে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন ও আলোক দূষণ নিয়ে ভাবনা শুরু করেছেন?

সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কাজে দুর্নীতি বন্ধে এবার নতুন কোনো উদ্যোগ নেবেন কী, যাতে দুর্নীতি বন্ধ হয় একেবারে? সঠিকভাবে সাধারণ মানুষ তাদের লাইসেন্সগুলো, ভূমির দলিলগুলো পাবে তো সঠিক সময়ে?

যাই হোক, সবার আগের চিন্তার বিষয় হলো ভাবনাটা শুধু জয়ের জন্য না হয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হওয়া দরকার। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের তো আর কয়েক বছরের জন্য জয় বা পরাজয়ের চিন্তা করতে হয় না। সুতরাং আপনার সময়টাকে মানুষের কল্যাণের জন্য চিন্তা করতে পারাটাই সফলতা।

শহরটা অনেক সুন্দর করা সম্ভব এখনও। ছোট ছোট কাজেই শহরটা সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। রাস্তাগুলোর পাশে ঘাসের গালিচা করে দিন, ময়লা ডাস্টবিনের বাইরে ফেললে জরিমানার ব্যবস্থা করুন, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর জন্য প্লাস্টিক বোতলে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করা কোম্পানিগুলোকে আইন করে তাদের প্লাস্টিক তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন এবং ছিন্নমূল মানুষদের বড় বড় বস্তিগুলো সরকারিভাবে আরও সংগঠিত করার ব্যবস্থা করা যায় কি-না তা নিয়ে ভাবনার বিস্তৃতি ঘটান।

আপনারা নিজে কোনো কাজ করবেন না, শুধু দৃষ্টিভঙ্গি আর সততাই সব পরিবর্তন করে দিতে পারে! ভাবনাটা বিস্তৃত করুন। মানবিকভাবে অনেক কাজ হয়ে যাবে! আসন্ন মেয়র নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন তাদের কাছে প্রত্যাশা নয়, বরং বলা যায় বাধ্যতামূলকভাবেই আমরা কাজগুলো চাই।

ট্যাগ :