বাংলাদেশ, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১ ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

চট্টগ্রামে মহানগর মহিলা দলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত


প্রকাশের সময় :৭ নভেম্বর, ২০২০ ৭:০৩ : অপরাহ্ণ

এম.এইচ মুরাদঃ

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দল। দিবসটি উপলক্ষে মহানগর মহিলা দলের উদ্যোগে র‌্যালি, সমাবেশ, বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৈনিক-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস। ওই দিন বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনাকে ধারণ করে গণজাগরণ সৃষ্টির মাধ্যমে বর্তমানে অগণতান্ত্রিক সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমে আসতে হবে এবং দলের নেতা কর্মীদের বিপ্লবী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। আর এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারলেই দেশে প্রকৃত স্বাধীনতা পুনরায় ফিরে আসবে।’

তিনি শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেইটস্থ বিপ্লব উদ্যানে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের পুষ্পস্তবক অর্পণ-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের র‌্যালি-পরবর্তী সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা ও আয়োজিত সভার সভাপতি জেলী চৌধুরী বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। ৩ থেকে ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছিল। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। সেদিন সিপাহী জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমেই রক্ষা পায় সদ্য অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আজ সে স্বাধীনতা থেকে এদেশের মানুষ আবারও বঞ্চিত। দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে কথা বলার স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আবারও নতুন করে বিপ্লব গড়ে তুলতে হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদিকা ও আসন্ন চসিক নির্বাচনে মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রেজিয়া বেগম বুলু বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনীতি একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থায় রূপ পেয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি অংশ আধিপত্যবাদে প্ররোচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে। তিনি ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যান্টমেন্টে বন্দি ছিলেন। ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতা ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে আনেন। তাই ৭ নভেম্বর জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। ৭ নভেম্বর সৃষ্টি না হলে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতো না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সার্ক-প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়মুখী কর্মকাণ্ডের কারণে একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। একটি মহল জিয়াউর রহমানের সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এখনো জিয়া পরিবার ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ষড়যন্ত্রকে নর্সাৎ করতে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আজ বিপ্লব ও সংহতি দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গিকার।’

উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা রাবেয়া বেগম রাবু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদিকা তাসলিমা আহমেদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা ফারহানা জসিম, কুঠির শিল্প সম্পাদিকা রানী বেগম, আকবর শাহ্ থানার সাধারণ সম্পাদিকা জোহরা বেগম, বন্দর থানার সাংগঠনিক সম্পাদিকা ফাতেমা কাজল, বায়েজিদ থানার সাবেক মহিলা দল নেত্রী নাসিমা আলম, পাঁশলাইশ থানার সাংগঠনিক সম্পাদিকা হাবিবা সুলতানা, চকবাজার থানার সাংগঠনিক সম্পাদিকা শিউলি আকতার, রিনা বেগম, বেবী বেগম, বাসানী বেগম প্রমূখ।

ট্যাগ :