বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তুয়ারি মাইরাং ঝরনায় একদিন


প্রকাশের সময় :30 August, 2020 4:07 : AM

নুরুল আজমঃ

পাহাড়, নদী, উপত্যকা, ঝরনা আর অসংখ্য ঝিরি নিয়ে খাগড়াছড়ি। দেশের এই পাহাড়ি অঞ্চল পর্যটকদের কাছে বরাবরই আর্কষণীয়। পাহাড়ের পর পাহাড়ে সাজানো এ চিরসবুজ অরণ্য দেশের যে কোনো অঞ্চল থেকে এ জনপথকে আলাদা করেছে। এর ভূ-প্রাকৃতিক গঠন স্বাতন্ত্র্য এলাকা হিসেবে মর্যদা দিয়েছে। চির রহস্যভূমির এ জনপদ যেমন পর্যটকদের কাছে আর্কষণীয়; তেমনি স্থানীয়দের কাছে ‘ভূস্বর্গ’। এরই মধ্যে জেলার দীঘিনালা সীমানা পাড়ায় সন্ধান মিলেছে প্রায় শত ফুট উঁচু ‘তুয়ারি মাইরাং’ ঝরনা। এডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে এ ঝরনা দেখতে স্থানীয় পর্যটক ছাড়াও বাইরে থেকে আসছেন অনেকে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও গাইড সুবিধা দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

লোকালয় থেকে হেঁটে ঝরনায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা। উঁচু-নিচু পাহাড়ে এখন চোখ ধাঁধানো সবুজ জুম। জুমের ল্যান্ডস্কেপজুড়ে সবুজ মখমল। কাছে দূরে ছোট ছোট জুমঘর। বন্যপ্রাণী থেকে জুমের ফসল বাঁচাতে জুমিয়া জুমঘর বানান। আগে জুমিয়ারা জুমের ফসল পাহারায় জুমঘরে রাতযাপন করতেন। বর্তমানে বন্যপ্রাণীর উৎপাত কম হওয়ায় অনেক জুমিয়া রাতে থাকেন না।

ঝরনায় যেতে জুমের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। পাহাড় থেকে নামতে হয় প্রাকৃতিক লতা বেয়ে। কয়েকটি পাথুরে জায়গা পারাপারে একমাত্র ভরসা সেই লতা। তবে এসব জায়গা মোটা দড়ি ব্যবহার করা ঝুঁকিমুক্ত। পাহাড় থেকে লতা বেয়ে নেমে হাঁটতে হয় পাহাড়ি ঝিরিতে। ঝিরির দুই পাশে উঁচু উঁচু টারশিয়ান যুগের পাহাড়। পাহাড়ি ঝিরিতে গা ছম ছম অনুভূতি। ঝিরিতে শত বছর ধরে আটকে আছে বড় বড় পাথর খ-। পাথর ও ক্যাসকেড বেয়ে নামছে পানির স্রোত। উঁচু পাহাড় আর গভীর অরণ্যের কারণে ঝিরি পর্যন্ত পৌঁছে না সূর্যের আলো। পথে পথে আরও কয়েকটি ঝরনা দেখা যায়। তবে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেসব ঝরনায় তেমন পানি নেই। ঝিরি পথে হাঁটার পর দেখা মেলে সুবিশাল তুয়ারি মাইরাং ঝরনা। শীতল ঝিরি পথের শেষে পাথরের পাহাড় বেয়ে নামছে ‘তুয়ারি মাইরাং’। এত উঁচু ঝরনা দেখে চোখ আটকে যাবে যে কারও। ঝরনার উল্টো দিকে পাথুরে পাহাড়।

ঢাকা থেকে তুয়ারি মাইরাং দেখতে এসেছে নেচার ট্র্যাভেলস বাংলাদেশ। বেড়াতে আসা পর্যটক মারিয়া, মুশফিকা, শান্তু জানান, করোনার মধ্যে দীর্ঘদিন যান্ত্রিক জীবনে আটকে ছিলাম। তুয়ারি মাইরাং ঝরনা দেখতে আসলাম। যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তারা আসতে পারবেন। ঝরনার আসা পথ অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। যারা পাহাড়ে আসতে পছন্দ করেন, ঝরনা পছন্দ এটি তাদের বেশ একটি জায়গা। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতেই খাগড়াছড়ি এসেছি। নতুন একটা ঝরনা তুয়ারি মাইরাং ঝরনা। এখানে প্রাকৃতিক অনুভূতি আছে। তবে প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো করে উপভোগ করতে হবে। তুয়ারিং মাইরাং প্রায় শতফুট উঁচু। অল্প কষ্টে অল্প হাঁটায় এখানে আসা যায়।

নেচার ট্র্যাভেলস বাংলাদেশ-এর টিম লিডার ডা. মইনুল হাসান জানান, তুয়ারি মাইরাং অত্যন্ত সুন্দর ঝরনা। চারপাশটা রোমাঞ্চকর। পথজুড়ে এডভেঞ্চারের স্বাদ পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও ঝিরি এবং ক্যাসকেড বেয়ে নামতে হয়। এ সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বন্ধুর পথ পেরিয়ে ঝরনা দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ।

এদিকে পর্যটকদের যাতায়াতে অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আগত পর্যটকদের গাইড সুবিধাও দেবেন তারা। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হতেন ত্রিপুরা জানান, তুয়ারি মাইরাং নতুন ঝরনা। স্থানীয়রা বেড়াতে আসলেও বাইরের পর্যটকরা খুব একটা আসেননি। যাতায়াতের পথ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে রাস্তাসহ অবকাঠামো নির্মাণ করে দিলে সুবিধা হবে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উল্ল্যাহ জানান, দীঘিনালায় তৈদুছড়া ঝরনা, বাদুড় গুহাসহ বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তবে দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটকদের যাতায়াতে অসুবিধা হয়। তুরায়ি মাইরাং পর্যটকদের কাছে এটি নতুন আর্কষণ হতে পারে। ট্রেকিংপ্রিয় পর্যটকরা এটি ঘুরে আসতে পারেন।

ট্যাগ :