বাংলাদেশ, বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মুজিববর্ষে যত আয়োজন!!


প্রকাশের সময় :১১ জানুয়ারি, ২০২০ ৩:৩৮ : অপরাহ্ণ

মোঃ মোরশেদুল হক আাকবরী:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বছরব্যাপী মহাকর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ে নানা পরিকল্পনা করেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান।

ইতোমধ্যে ২৯৬টি পরিকল্পনার তালিকা করেছে ওই কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস ঘিরে বড় পরিসরের কর্মসূচির পাশাপাশি পুরো বছরে থাকছে বিভিন্ন আয়োজন। থাকছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্রের পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, বাংলা ও ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর অর্জন ও আত্মত্যাগের গৌরবগাথা নতুন প্রজন্ম এবং সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরব জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে। আমাদের উদযাপন হবে প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যময়।

১৭ মার্চ ২০২০ থেকে শুরু হয়ে ১৭ মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত চলবে মুজিববর্ষের কর্মকাণ্ড। ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ক্ষণগণনার মাধ্যমে ১৭ মার্চ মুজিববর্ষে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

১০ জানুয়ারির আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আবহও ‘প্রতীকীভাবে’ ফুটিয়ে তোলা হবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যে বিমানে করে দেশে ফিরেছিলেন, সেই আদলের একটি বিমান ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে থাকবে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে সরকার জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে।

মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় কমিটি’ এবং ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে দুটি কমিটি গঠন করা হয়।

বাস্তবায়ন কমিটির অধীনে সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভার আয়োজন, আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজন, প্রকাশনা ও সাহিত্য অনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও অনুবাদ, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, মিডিয়া, প্রচার ও ডকুমেন্টেশন এবং চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নামে আটটি উপকমিটি ও কর্মসূচি নির্ধারণে কাজ করেছে।

বছরব্যাপী আয়োজন : মুজিববর্ষের বছরব্যাপী আয়োজনের সূচনা হবে চলতি বছরের ১৭ মার্চ। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা শহর ও বিভিন্ন স্থানে ৩১ বার তোপধ্বনি, সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন।

ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা আয়োজন করা হবে।

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক আয়োজন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি সেদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।

এদিন জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন দফতর, সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হবে।

২২-২৩ মার্চ ২০২০ : মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ২২ মার্চ অধিবেশনের শুরুর আগে সব সংসদ সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেবেন।

২৫ মার্চ : গণহত্যা দিবস পালন।
২৬ মার্চ : মুজিববর্ষের আবহে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস পালন।
১৭ এপ্রিল : মেহেরপুরের মুজিবনগর দিবস উদযাপন।
২৩ মে : জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জুলিও কুরি পদক প্রাপ্তি দিবস উদযাপন।
৭ জুন : ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন।
২৩ জুন : রোজ গার্ডেন বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন।
৮ আগস্ট : বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন পালন।
১৫ আগস্ট : জাতীয় শোক দিবস পালন।
২৫ সেপ্টেম্বর : জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্যবিষয়ক আলোচনা।
৩ নভেম্বর : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও অন্যান্য স্থানে জেলহত্যা দিবস পালন।
১৪ ডিসেম্বর : রায়েরবাজার বধ্যভূমিসহ সারা দেশের সব বধ্যভূমি ও অন্যান্য স্থানে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন।
১৬ ডিসেম্বর : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, জাতীয় প্যারেড স্কয়ার ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে বিজয় দিবস উদযাপন।
১০ জানুয়ারি ২০২১ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদ্?যাপন।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ : শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের বার্ষিকী উদযাপন।
৭ মার্চ ২০২১ : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপনে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন এবং আর্মি স্টেডিয়ামে জয় বাংলা কনসার্টের আয়োজন।
১৭ মার্চ ২০২১ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মুজিববর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ :