বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রান্তিক উন্নয়নে সেতু-কালভার্ট


প্রকাশের সময় :6 September, 2020 3:51 : AM

স্টাফ রিপোর্টার:

২০২২ সালের মধ্যে সারা দেশে ১৩ হাজার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার। ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৩৬৩টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব ব্রিজ নির্মাণ হলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ বেশি উপকৃত হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, প্রকল্পে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

পক্ষ থেকে এটা মনিটরিং করি না, নিয়ম অনুযায়ী এখানে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, ব্রিজ নির্মাণ কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমনকি জনপ্রতিনিধিরা সার্বিক খোঁজ-খবর রাখেন। এরপরও আমরা কিছু ক্ষেত্রে ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় ৩০টির মতো ব্রিজ ফাউন্ডেশন পর্যায়েই ভেঙে ফেলেছি। পরে ঠিকাদাররা আবার নতুন করে তা নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি জানান, কোনো ব্রিজ নির্মাণের আগে সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাধারণ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করি। তারা সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করেন। এর বাইরে আমরা ঢাকা থেকে হঠাৎ করেই বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন কাজ পর্যবেক্ষণে যাই। প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের এ উদ্যোগের ফলে কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে পুরোপুরি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, এটি গ্রামীণ রাস্তায় সেতু কালভার্ট প্রকল্প। যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বসবাস করে। যেখানে প্রান্তিক চাষি শস্য উৎপাদন; বিশেষত শাকসবজি, তরকারি ও গবাদিপশু উৎপাদন করে। কিন্তু পরিবহনের অভাবে বা ব্রিজের অভাবে তারা এসব শস্য পরিবহন করে বাজারে বা বিক্রয় কেন্দ্রে বিক্রয় করতে পারে না। ওই জনগণের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ব্রিজ তৈরি করে দেওয়া। একজন কৃষককে বাজারে যেতে যেখানে ২ থেকে ৪ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দিলে তার জন্য সহজে বাজারে যাওয়া সম্ভব হয়।

১২ থেকে ১৮ ফিট পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা থাকলে সেখানে একটি ব্রিজ তৈরি করা হয়। কিছু জেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্কুল-কলেজ আছে, বাচ্চারা লেখাপড়া করতে পারে না অনেক সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে বাচ্চারা নিচে পড়ে যায়। তাদের স্কুলে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমরা এসব ব্রিজ তৈরি করছি।

বিশেষভাবে দুর্যোগের সময় দুর্যোগ ঝুঁকি-হ্রাস করার জন্য যেসব এলাকায় দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, আইলার মতো দুর্যোগ দেখা দেয়, তখন নারী-শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের দ্রুত সেবাকেন্দ্রে বা আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য ব্রিজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ ব্রিজ-কালভার্ট প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, যদিও ১৯৯৪ সাল থেকে এ প্রকল্প চলে আসছে, তবে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় এটি অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে চলে আসছে। আগে ১২ মিটার ছিল এসব ব্রিজের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে ১৫ মিটার বা ৫০ ফিট পর্যন্ত করা হয়েছে। এর চেয়ে বড় ব্রিজ দরকার হলে এলজিইডির সড়ক বিভাগ করে থাকে।

এসব কালভার্ট নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে এ প্রকল্পের পরিচালক আইনুল কবির বলেন, এখানে সেভাবে প্রতিবন্ধকতার বিষয় নেই। আসলে এসব ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবটা শুরু হয় জনগণের কল্যাণে, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট এলাকার উপদেষ্টা। তাদের পরামর্শ প্রয়োজন বিবেচনা করে আমাদের যে নীতিমালা আছে, সেটা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়। এ কমিটিতে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। তারা পর্যালোচনা সভা করে অনুমোদন দিয়ে রেজুলেশন পাঠালে আমরা তা অনুমোদন দেই।

প্রত্যেকটা ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে কতজন লোক উপকৃত হবে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের কাছে পাঠায়। সেটা বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এমনকি এর সঙ্গে প্রকল্পের আর্থিক সংস্থান বিবেচনার ওপর নির্ভর করে একটি উপজেলায় ডিপিপি কমিশন রয়েছে সেই উপজেলার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

ব্রিজ নির্মাণের পর রাস্তার দুই পাশে মাটি সরে যায় এবং ব্রিজগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনি সঠিক বলেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ব্রিজ নির্মাণের পর দুই পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। আমাদের নির্মিত ব্রিজগুলো কতটুকু কার্যকর- এর ওপর একটি গবেষণা সংস্থা গবেষণা করেছে। তারা সেখানে এ ধরনের সমস্যার বিষয় উল্লেখ করেছে। বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে অনেক সময় কাঁচা মাটি সরে যায়। এজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর এর নিজস্ব বাজেট থেকে কাবিখা ও অন্যান্য কার্যকলাপের মধ্যে এ মাটি সংরক্ষণ কাজ করার কথা।

অনেক সময় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ফান্ডের ক্রাইসিসের কারণেই হোক বা যে কারণেই হোক এ ধরনের কার্যক্রম ঠিকমতো হয় না। যে কারণে এ মাটি সরে যেতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ঠিকাদারের মোট বিলের ১০ শতাংশ টাকা আটকে রাখি। এক বছরের মধ্যে মাটি সরে গেলে সেই সিকিউরিটি মানি থেকে আমরা এটা নির্মাণের ব্যবস্থা করি।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ হয়ে আসা এসব সেতুর দুই পাশের রাস্তা নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। ‘রিপেয়ারিং অ্যান্ড মেইনটেনেন্স অব ব্রিজ কালভার্ট’ প্রকল্পের কাজ হবে অনেক বছর ধরে ব্যবহারের ফলে এসব ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের মেনটেন্যান্স করা। আমরা ইতোমধ্যে এ প্রকল্প সরকারের কাছে সাবমিট করেছি, সরকার অনুমোদন করলে সারাদেশের ব্রিজের দুইপাশে মাটি সরে যাওয়ার সড়কের মেরামত সম্ভব হবে।

ট্যাগ :