বাংলাদেশ, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২ ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

নির্বাচনের আগে যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


প্রকাশের সময় :৭ জানুয়ারি, ২০২২ ৪:৪৪ : অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৩ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশ বিস্ময়কর উন্নয়ন করেছে। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম আমরা তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’ বর্তমান সরকারের তৃতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে, ‘২০২১ সাল ছিল আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক অভূতপূর্ব স্বীকৃতির বছর। গত বছর আমরা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষে এই অর্জন বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে ২০২০ এবং ২০২১ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, ‘সেই সংকট এখনও কাটেনি। করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। আমাদের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়েছে। নেমে এসেছিল স্থবিরতা। তবে, আপনাদের সহায়তায় আমরা তা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন নীতি-সহায়তা এবং বিভিন্ন উদার-নৈতিক আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের মাধ্যমে আমরা অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা ২৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। এরমধ্যে অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৫৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এতে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলা করে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী তিনি তুলে ধরেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১-এ বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে জানান– দ্য ইকোনমিস্ট ২০২০ সালের প্রতিবেদনে বলেছে, ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

দ্রুত টিকা নেওয়ার অনুরোধ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুনভাবে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই দেশবাসীকে সাবধান হওয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এখন পূর্ণোদ্যমে কোভিড-১৯ টিকাকরণের কাজ চলছে। চলতি মাস থেকে গণটিকা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিমাসে ১ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ আর দুই ডোজ পেয়েছেন ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার। গত মাস থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি ডোজ টিকা মজুত আছে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ সম্মুখ সারির যেসব যোদ্ধা মারা গেছেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর যেসব রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মারা গেছেন, তাঁদের সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনার মন্তব্য, ‘আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং গুণগত মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু ২০১৯-২০ সালে ৭২ দশমিক ৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। ৫ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮ ও অনূর্ধ্ব ১ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৫-তে হ্রাস পেয়েছে। মাতৃ মৃত্যুহার কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি লাখে ১৬৫ জনে।’

শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি
করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে এবং স্কুল পর্যায়ের জন্য টেলিভিশন মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। মহামারির প্রকোপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় ইতোমধ্যে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই বিতরণ শুরু হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার বৃত্তি-উপবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় স্নাতক ও সমমান শ্রেণির আরও ২ লাখ ১০ হাজার ৪৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১১১ কোটি বিতরণ করা হয়।

ট্যাগ :