বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আগের ভাড়ায় চলছে বাস


প্রকাশের সময় :1 September, 2020 6:42 : AM

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রায় তিন মাস বাড়তি ভাড়ায় চলাচল করার পর আজ মঙ্গলবার থেকে আগের ভাড়ায় ফিরছে গণপরিবহন। করোনা মহামারীর এই সময়ে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালানোর শর্ত হিসেবে এতদিন ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের যে নিয়ম ছিল, সেটিও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে শতভাগ আসন পূর্ণ করে যাত্রী নিতে পারবে গণপরিবহনগুলো। তবে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে মানতে হবে মাস্ক পরা ও স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা।

গত শনিবার এ সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে চারটি শর্তে সরকার গণপরিবহনে যত সিট তত আসনে আগের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে।

শর্তগুলো হচ্ছে- ১. আসন সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। ২. গণপরিবহনে যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার/কন্ডাক্টর, হেলপার এবং টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিতদের মাস্ক পরিধান/ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান-পানি/হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৩. যাত্রার শুরু ও শেষে বাস-মিনিবাসগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এছাড়াও যানবাহনের মালিকগণকে যাত্রীগণের হাতব্যাগ, মালপত্র জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি মেনে চলতে হবে।

এর আসে শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহনের আগের নির্ধারিত ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
এদিকে আগের ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বাস মালিকরা। গত বুধবার রাতে গণপরিবহন মালিকদের এক জরুরি বৈঠকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ ভাড়ায় গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় বাস ও গণপরিবহন চালাতে আমরা প্রস্তুত। এরই মধ্যে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পরিবহন শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিআরটিএ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। আমরা ইতোমধ্যে পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিয়েছি। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগের ভাড়ায় চলবে গণপরিবহন। পুরো আসনে যাত্রী নেওয়া যাবে। ফলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

তবে পুরনো ভাড়া কার্যকর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর। তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে প্রজ্ঞাপন দিয়ে করোনাকালে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছিল, সেই একই পদ্ধতিতে অর্থাৎ সরকারি নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করতে হবে। না হলে পরিবহন মালিকরা-শ্রমিকরা ভাড়া কমাবে না, তারা নানান টালবাহানা করবে। যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে, জোর-জবরদস্তি করবে। বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।’

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত বর্ধিত হয়। এই সময়ে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। গত রোজার ঈদের পর ৩১ মে থেকে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করে সীমিত পরিসরে অফিস, আদালত এবং গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত দেয়। এরই অংশ হিসেবে ৩১ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ১ জুন থেকে শর্ত সাপেক্ষে গণপরিবহন চালু হয়। পরিবহন মালিক পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করোনার সময়ে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে গত ১ জুন থেকে সারা দেশে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। তবে অভিযোগ ছিল, সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর কথা বললেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সরকারের বৃদ্ধি করা ভাড়ার চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করেছেন। এছাড়া তারা করোনাকালীন পরিবহন চালানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও মানেনি। এ অবস্থা এখনো বিদ্যমান। এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা, তার ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর এখন পুরনো ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিআরটিএ। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হবে কিনা- তা কেউই স্পষ্ট করেনি।

ট্যাগ :