বাংলাদেশ, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি সরবরাহের উৎস হালদার বিকল্প চাঁদপুরের মেঘনা


প্রকাশের সময় :১১ অক্টোবর, ২০২১ ৬:০৮ : পূর্বাহ্ণ

কাদের পলাশঃ

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে হালদার বিকল্প চাঁদপুরের মেঘনা
মেঘনা-পদ্মা-ডাকাতিয়া নদীর মোহনা থেকে দৈনিক ৯০ কোটি লিটার পানি উত্তোলনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তিন নদীর মোহনা চাঁদপুরের এ স্থান থেকে পানি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের শিল্প নগরে পৌঁছাতে প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে পানি সরবরাহের জন্য হালদা নদীর বিকল্প হিসেবে মেঘনা নদী থেকে পানি নিতে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। যদিও পরিকল্পনাটি এখনো ‘স্টাডি পর্যায়ে’ রয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাইপ লাইন তৈরি, জমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পে মোট ব্যয়ও উল্লেখ নেই পরিকল্পনায়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, আমরা প্রথমে হালদা নদীর মোহনা থেকে পানি নেওয়ার পরিকল্পনা করি। ওই প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে আছে। মন্ত্রণালয় ওই বিষয়ে কোনো প্রকার অগ্রগতি জানায়নি। অপরদিকে চাঁদপুরের ত্রিনদী মোহনা থেকেও পানি উত্তোলনের জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রলালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পটি নিয়ে আরও পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে মন্ত্রলালয় থেকে। আমরা পর্যালোচনা করছি।

প্রকল্পটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু চাঁদপুরের পানি উৎস থেকে বাস্তবায়নের দূরত্ব অনেক বেশি সেহেতু এখনো বিষয়টি স্টাডি পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া স্টাডির অনেকগুলো প্যারামিটার থাকে তাই প্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুর-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, বিরাট অংকের পানি এখন থেকে উঠানো হবে বলে মনে হচ্ছে। মেঘনা মানেই যে অফুরন্ত, তা কিন্তু নয়। অনেক জায়গায় চরডুবচর পরে এমনিতেই একটা বৈরি অবস্থা বিরাজ করছে। তাই এ বছর চাঁদপুরে ইলিশ কম এসেছে। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। ক্ষতিকর দিকগুলো মূল্যায়ন না করে প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়ন হতে যায় সেটি নিশ্চয় শঙ্কার ব্যাপার। ইমপেক্ট অ্যাসেস না করে যদি করা হয়, তবে শঙ্কার ব্যাপার হয়। বিরূপ প্রভাব পড়ারই সম্ভাবনা বেশি।

মেঘনার মোহনা ইলিশ প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ স্পটের ওপর প্রভাব পড়বে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, স্টাডিগুলো সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যাবে। তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। মতামত পক্ষে হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে নতুবা হবে না। চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে এই দীর্ঘ দূরত্বে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি আনার সময় পথে হাজিগঞ্জ, লাকসাম, ফেনী, বারৈয়ারহাটসহ কয়েকটি স্থানে প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহেরও পরিকল্পনা আছে ওয়াসার। বাকি ৪৫ কোটি লিটার পানি যাবে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের পানির চাহিদা মেটাতে হালদা নদী থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি উত্তোলনের একটি পরিকল্পনা করেছিল ওয়াসা। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠায় বিকল্প হিসেবে মেঘনা মোহনা থেকে পানি উত্তোলনের প্রস্তাব করা হয়। সিদ্ধান্ত পেলে মেঘনা মোহনা থেকে পানি আনার প্রকল্পটির বিস্তারিত সমীক্ষা হবে। এখন শুধু ধারণাপত্রের ভিত্তিতে একটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং ধারণাপত্রটি তৈরি করেছে। ধারণাপত্রে, মেঘনা মোহনা থেকে পানি উত্তোলনের পর ইনটেক স্টেশন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বুস্টিং স্টেশন ও রিজার্ভার করার প্রস্তাব আছে। তবে ১৩৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন তৈরি করতে কী পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে এবং প্রকল্পে মোট কত ব্যয় হবে তা উল্লেখ নেই।

ট্যাগ :