বাংলাদেশ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

চট্টগ্রাম জিপিওর নয়ছয়, চিঠিসহ মূল্যবান পার্সেল গায়েব!


প্রকাশের সময় :15 October, 2020 6:22 : AM

এম.এইচ মুরাদঃ

চট্টগ্রাম জিপিও পোষ্ট অফিসের দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানকার পোস্ট মাস্টার ও অফিস স্টাফদের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রিকৃত চিঠিসহ মূল্যবান পার্সেল গায়েব করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) নৈশ শাখা থেকে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রয়ারী ঢাকায় একটি চিঠি পাঠানো হয়। রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠানো চিঠির সাথে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে যুক্ত করা হয় এডি (প্রাপ্তি স্বীকার) কার্ড। ৫ মাসেও আসেনি সেই চিঠি বিলির কোন প্রাপ্তি স্বীকার বা অবিলিকৃত চিঠি। গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জিপিওতে সেই চিঠির ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়।

কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার দুইমাসেও চিঠির সন্ধান পায়নি জিপিও কর্মকর্তাররা। এভাবে জিপিও থেকে প্রতিদিন অনেক চিঠি হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। বাড়তি খরচ দিয়ে রেজিস্টার্ড ডাকে চিঠি পাঠানো হলেও তা গন্তব্যে পৌঁছে না। এভাবে ডাক বিভাগের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে নিস্ব হচ্ছেন অনেকে।

কিন্তু পোস্ট অফিসের রেজিস্ট্রিকৃত ওই মূল্যবান চিঠি রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠছে পোস্ট মাস্টার ও অফিস স্টাফদের যোগসাজশে প্রতিদিন চিঠি গায়েব হচ্ছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের গ্যারান্টি যুক্ত দ্রুত ডাক সার্ভিসের মাধ্যমে এই চিঠিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাওয়ার কথা থাকলেও আট মাসেও চিঠিটি সঠিক স্থানে না পৌঁছলে প্রেরক জিপিওতে অভিযোগ করেন।

জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার দুইমাসেও চিঠির সন্ধ্যান পায়নি জিপিও। এভাবে জিপিও থেকে প্রতিদিন অনেক চিঠি হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। বাড়তি খরচ দিয়ে রেজিস্টার্ড ডাকে চিঠি পাঠানো হলেও তা গন্তব্যে পৌঁছে না। এভাবে ডাক বিভাগের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারাচ্ছে অনেকে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জিপিওর সিনিয়র পোস্টমাস্টার জেনারেল ড. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন বলেন, অনলাইন না হওয়া পর্যন্ত চিঠির সর্বশেষ অবস্থান আমরা জানাতে পারবো না। অনলাইন হলে তাৎক্ষণিক আমরা ট্রেকিং করতে পারতাম। এখন রেজিস্টার্ড চিঠি হলে সেটা সম্পর্কে তদন্ত করে জানাতে পারি। আপনি যে চিঠির কথা বলছেন সেটার তথ্য দেন। আমরা তদন্ত করে আপনাকে জানাবো।

তিনি বলেন, সাধারণত ঢাকার চিঠি একদিনেই চলে যায়। গন্তব্যের উপর সময় নির্ভর করে। গ্রামের কোন পাড়ার মধ্যে হলে তিনচার দিন বা পাঁচদিনও লাগতে পারে। ঢাকার চিঠি পরের দিন বা একদিন পরেই পাওয়ার কথা।

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জিপিওর নৈশ শাখা থেকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে (রেজি-৪২৫) চিঠিটি ঢাকায় প্রধান তথ্য কমিশার বরাবরে পাঠানো হয়। এডিযুক্ত এ চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার পত্র বা কোন কারণে পত্র বিলি না হলে সেটা ফেরত আসার কথা। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যেই চিঠির রফাদফা হওয়ার কথা।

কিন্তু ৫ মাসেও কোন তথ্য জানতে না পারায় আগস্ট মাসে সিনিয়র পোস্টমাস্টার জেনারেল বরাবরে পত্রের সন্ধান চেয়ে অভিযোগ করা হয়। ৯ আগস্ট সিনিয়র পোস্টমাস্টার জেনারেলের দপ্তর থেকে অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করে পত্র দেয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে সে পত্রে তদন্ত শেষে ফলাফল জানানোর কথা বলা হয়। কিন্তু দুই মাস অতিবাহিত হলেও সেই চিঠির তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দিতে পারেনি জিপিও।

পোস্টমাস্টার জেনারেল ড. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আরও বলেন, রেজিস্টার্ড চিঠি এডি করা থাকলে সেটার প্রাপ্তি স্বীকার পত্র আসবে। অনেক সময় হয়তো চিঠি চলে গেছে, তাই কর্মচারীরা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র বিলি করতে চায় না। অবহেলা করে। প্রাপ্তি স্বীকার না আসা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অজ্ঞতার কারণে হয়। এজন্য তাদের শোকজ করা হয়, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করার মত শাস্তিও দেয়া হয়।

অনেক অভিযোগ থাকলেও চট্টগ্রাম জিপিওর একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৩টি রেজিস্টার্ড চিঠি চট্টগ্রাম জিপিও থেকে বিভিন্ন জায়গায় যায়। ২০১৮ সালের একই সময় (প্রথম ছয়মাস) ৮৬ হাজার ২৬৩ এবং ২০১৯ সালের প্রথম ছয়মাসে ৯৯ হাজার ৫১৬টি চিঠি বিভিন্ন জায়গায় যায়।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয়মাসে মোট ১ লাখ ৯৪৪৪ হাজার ২৪টি রেজিস্টার্ড চিঠি চট্টগ্রাম জিপিওতে আসে। ২০১৮ সালের একই সময়ে ১ লাখ ৮৮ হজাার ৩৪৬টি, ২০১৯ সালের একই সময়ে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৩টি এবং ২০২০ সালের এ সময়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ১২৯টি চিঠি বিভিন্ন জায়গা থেকে চট্টগ্রাম জিপিওতে আসে।

উল্লেখ্য, ডাকসেবা হিসেবে ডাকঘর চিঠিপত্র, পোস্ট কার্ড, পার্সেল ইত্যাদির সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু নানা করণে এখন মানুষ পোস্ট অফিসের সেবা নিতে আগ্রহী নয়। ফলে মাঝেমধ্যে যে চিঠি/পার্সেল আসে, তার অধিকাংশই সরকারি চিঠি। পাবলিক চিঠি মাসের পর মাস অনেক পোস্ট অফিসে আসে না।

ডাক বিভাগের মাধ্যমে মানুষ সঞ্চয়পত্র, ডাক জীবন বীমা, মোবাইল মানি অর্ডারের সেবা পেয়ে থাকলেও অনুন্নত অবকাঠামো, সেবার সহজলভ্যতা ও ডাকসেবা সম্পর্কে মানুষের ধারণার অভাব সর্বোপরি ডাক বিভাগের কর্মীদের অবহেলার কারণে সেবাও কাঙ্খিত হারে বাড়েনি।

বিভিন্ন ধরনের কুরিয়ার সার্ভিস ডাক বিভাগের স্থানটি দখলে নিয়েছে। বর্তমানে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করলেও ডাক বিভাগের প্রতি দিনদিন অনাস্থা বাড়ছে।

ট্যাগ :