বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলা! নিহত ১


প্রকাশের সময় :18 September, 2020 6:17 : PM

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা সেকেন্দার হোসেনের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলায় ইউনুস মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় হোসানাবাদ ইউনিয়নের খিলমোগল গ্রামের খামারিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার মো. ইমরান হোসেন নিহত ইউনুস মিয়ার ভাতিজা।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমার চাচা ইউনুস মিয়ার জায়গা দখলের জন্য প্রতিবেশী মহররম মিয়া, হাবিবুর রহমান ও তার ছেলে এহসানুল হক এবং আজিজুর রহমান ও তার ছেলে মো. মামুন, মনির আহামেদ ও তার ছেলে সাইমুন যান। দখল করতে গাছ কাটতে গেলে চাচা ইউনুস মিয়া বাধা দেন।

‘একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে তারা আমার চাচা ইউনুস মিয়া, তার ছেলে এবং আমাকে বাটাম ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।’

‘কিছুক্ষণ পর হোসানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেকেন্দারসহ তারা আবার ঐ জায়গায় আসেন। চেয়ারম্যান হাতে ওয়ান শ্যুটারগান নিয়ে এসেছিলেন। চেয়ারম্যান নিজে আমার চাচা ইউনুস মিয়াকে মারতে শুরু করেন এবং অন্যদেরকেও মারার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় দফা হামলার এক পর্যায়ে আমার চাচা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। আমরা সকলেই আহত হই।’ যোগ করেন ইমরান।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জায়গার মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে নিহত ইউনুস মিয়ার সাথে তার প্রতিবেশীদের সকালে বাক-বিতন্ডা হয়। সেই সময় তার উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে হোসানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেকেন্দারের নেতৃত্বে ইউনুস মিয়া, তার ছেলে ও ভাতিজাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের ঘটনায় ইউনুস মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘হামলায় আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ আছেন। বর্তমানে নিহত ইউনুস মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলা করতে কেউ থানায় আসেননি।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হোসানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা সেকেন্দার হোসেনের নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও প্রতিবার তিনি কল কেটে দেন।

এদিকে রাঙ্গুনিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এহসানুল হক, মো. মালেক, মমতাজ বেগম ও সায়রা খাতুন নামের চারজনকে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ আটক করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ট্যাগ :