বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বায়েজিদ বাইপাস সড়ক নতুন বিনোদন স্পট! দর্শনার্থীদের ভিড়


প্রকাশের সময় :17 August, 2020 5:25 : AM

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বেলা বাড়তেই সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে দেখা যায়। বাবা-মায়ের হাত ধরে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও বয়-বৃদ্ধদেরও আসতে দেখা যায়। সময় কাটাতে অনেকে দূর থেকেও আসছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। বিকেলের দিকে বেশ জমে উঠে পুরো স্থানটি। করোনাকালীন এ সময়ে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দী হয়ে থাকায় একপ্রকার হাঁফিয়ে উঠেছে শিশুসহ নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী সবাই। তাই পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে ও প্রিয় মানুষদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছে। এছাড়াও করোনার কারণে এখনো সবগুলো বিনোদন স্পট খোলা হয়নি। যার কারণে আশপাশের মানুষসহ শহর ও দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে ঘুরতে আসছে এখানে। করোনাকালীন সময়ে বেশ জমে উঠেছে এ স্থানটি।

সড়কের দু’ধারে উচু পাহাড়। মাঝখানে ঝকঝকে নতুন রাস্তা। কিছুক্ষণ পরপরই ছুটে যাচ্ছে দূরপাল্লার গাড়ি। চারপাশে সবুজ বৃক্ষরাজি। আর পাহাড় থেকে নেমে আসা দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা ও পাহাড় ঘিরে অপরূপ লেক। সব মিলিয়ে অসাধারণ পরিবেশ শহর থেকে খানিকটা দূরে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বাইপাসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহর থেকে দূরে এ যেন একটি নয়া বিনোদন স্পট। বিকেলের দিকে দলে দলে কিছু তরুণ-তরুণীকে আসতে দেখা যায়। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার নিয়ে পরিবারসহ ঘুরতে এসেছেন অনেকে। লেকের ধারে সবুজ ঘাসে দল বেঁধে বসে আড্ডা দিচ্ছে অনেকে, মোবাইল ও ক্যামেরায় একে অন্যের ছবি ও সেলফি তুলছে, প্রেমিক যুগলরা বসে গল্প করছে আবার সড়কের পাশে লেকের পানিতে পা ভিজিয়ে গল্প করছে একে অন্যের সাথে। পাহাড়ের মাঝখানে আঁকা-বাঁকা লেকটি এখানে সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

কথা হয় মানিক ও শান্তু দম্পতির সাথে। তারা বলেন, আমরা শহরের হালিশহরে থাকি। আমি পেশায় ব্যাংকার ও আমার স্ত্রী শিক্ষিকা। শনিবার আমার অফিস বন্ধ থাকায় আমরা দুইজনেই ঘুরতে বের হয়েছি। করোনার কারণে অনেক দিন ঘর থেকে বের হইনি। এ পাঁচমাস সে ঘরে বসে থেকে এক প্রকার অসুস্থ হয়ে গেছে। তাই এখন যেহেতু পরিস্থিতি একটু স্বাবাভিক হয়েছে ঘুরতে বেরুই। এখানের পরিবেশটাও সুন্দর।

পেশায় ব্যবসায়ী রফিক উদ্দীন তিনিও স্ত্রী, সন্তান ও বাবা মাসহ পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। এসময় তিনি বলেন, বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ, বয়স্ক বাবা-মা তারাও ঘরবন্দী হয়ে আছে অনেক দিন ধরে। এ করোনার মধ্যে অনেক অসুস্থ ছিলেন আমার বাবা মা। এরমধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে বের হবো ভাবছি। কিন্তু ব্যবসার জন্য সময়ও পাচ্ছি না। করোনার কারণে এ চারমাস ব্যবসারও অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যে তো পরিবার নিয়েও ভাবতে হবে। তাই আজ সবকিছু রেখে সন্তানদের সাথে বাবা-মাকে নিয়েও ঘুরতে বের হই। শহর থেকে বাইরে মানুষের তেমন ভীড় নেই। অনেক দিন পরে সবাইকে নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

ট্যাগ :