বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

চট্টগ্রামের প্রাইভেট হসপিটালের অনিয়ম রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা কার্যকরে ‘দুদক’র আরও তৎপর হওয়া উচিত : সুজন


প্রকাশের সময় :২০ জুলাই, ২০২০ ১:১৯ : অপরাহ্ণ

এম.এইচ মুরাদঃ

চট্টগ্রামের প্রাইভেট হসপিটালগুলোর অনিয়ম রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা কার্যকরে চট্টগ্রাম দুদক উদাসীন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ সোমবার (২০ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, গত ৬ জুলাই মহামান্য হাইকোর্ট বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করতে পারবেন এবং সেই অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা রোগীদের অতিরিক্ত বিল বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনাও মানছে না। ইতিপূর্বে ঐসব হাসপাতাল মালিকরা রোগীদের ভর্তি না করে অমানবিকভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে। যার ফলে চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অনেক রোগী অকালে মৃত্যুবরণ করেছে।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের চাপে পড়ে তারা রোগী ভর্তি করালেও হাসপাতালের অস্বাভাবিক বিলে রোগীর আত্নীয় স্বজনদের প্রান ওষ্ঠাগত হওয়ার মত অবস্থা হয়েছে। এসব বিল পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করছে হাসপাতাল প্রশাসন। এমনকি মৃত রোগীর লাশ অবরূদ্ধ করে তাদের অযৌক্তিক বিল আদায়ের মতো হৃদয় বিদারক ঘটনাও ঘটেছে।

দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে তদারকির অভাবে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা এভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বিল আদায়ের বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে দুদকে অভিযোগ জানানোর নির্দেশনা প্রদান করলেও চট্টগ্রাম দুদক এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে। দেখা যাচ্ছে যে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ওষুধের দোকানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দুদক এবং র‌্যাব।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে চট্টগ্রামে এ ধরনের কোন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে চট্টগ্রামের কতিপয় বেসরকারি হাসপাতাল মালিক এবং ওষুধ ব্যবসার সাথে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা। করোনাকালীন সময়ে সব প্রতিষ্টানই কিছু না কিছু দায়িত্ব পালন করলেও চট্টগ্রাম দুদকের রহস্যজনক নীরবতা আমাদেরকে প্রচন্ডরকম ভাবে হতাশ করেছে।

এর ফলে স্বাস্থ্য সামগ্রী এবং হাসপাতালের বিল নিয়ে বেপরোয়াভাবে নৈরাজ্য শুরু করেছে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবসায়ীরা। এদেরকে আইনের আওতায় না আনার কারণে রোগী সাধারন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই এখানে নীরবতা পালন করছে। আমরা ইতিমধ্যে অযৌক্তিক বিল বিষয়ে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালকে চিহ্নিত করেছি যারা এ রকম অমানবিক ঘটনা ঘটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া অব্যাহতভাবে রোগীকে ফিরিয়ে দিয়ে মৃত্যু পথে যেতে বাধ্য করছে এ সব বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা। অথচ হাসপাতাল বাতায়ন তথ্যে প্রচুর শয্যা এবং আইসিইউ খালি থাকার তথ্য দেখা গেলেও বাস্তবে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আইসিইউ না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে প্রশ্ন জাগে এ দৌরাত্ন্যের শেষ কোথায়।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল রোগীর উপর সবচেয়ে বেশী অন্যায় করছে। তাদের অন্যায় এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে তাদের বিরুদ্ধে অতিসত্ত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। জনাব সুজন এসব হাসপাতাল মালিকদের পূণরায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন আজ থেকেই যদি এসব বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা তাদের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি পরিহার না করে তাহলে তাদের নাম অতিসত্ত্বর গণমাধ্যমসহ নগরীর উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। এর ফলে যদি তারা জনরোষের শিকার হয় সেক্ষেত্রে সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব ঐসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এছাড়া করোনা চিকিৎসার ওষুধ রেমডেসিভি’র দাম নিয়েও অন্ধকারে আছেন ক্রেতারা। দেখা যাচ্ছে যে করোনা রোগীর কাছ থেকে একেক হাসপাতাল একেক রকম দাম আদায় করছে।

তিনি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে রেমডেসিভর গ্রুপের ঔষুদের প্রকৃত বাজার মূল্য জনগনকে জানানোরও অনুরোধ জানান।

ট্যাগ :