বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে দুঃসময়ে রাজপথের ত্যাগী ও সাহসী নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর


প্রকাশের সময় :১২ মে, ২০২২ ৮:৪৫ : অপরাহ্ণ

এম.এইচ মুরাদঃ

চট্টগ্রামে যে কয়জন রাজনৈতিক নেতা ইতিমধ্যে সুপরিচিত হয়ে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হতে পেরেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলো বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এমন একজন জনবান্ধব নেতা, যার সান্নিধ্যে না গেলে বুঝা মুশকিল আসলে তিনি কতটা কর্মীবান্ধব, অতিথিপরায়ন বা বন্ধুত্বপরায়ন মানুষ। আগে আমার সাথে ওনার কখনও সাক্ষাৎ না হলেও মানুষের কাছে শোনা কথাটি আজকে একটি বিশেষ কাজে তার কাছে গিয়ে প্রমাণ পেলাম নতুন করে।

আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের নেতা কর্মী ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক ছাত্রনেতা ও সাধারণ জনতার সাথে কথা বলে জানা যায়, যখন সংগঠনের দূঃসময় চলছিলো এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দল থাকার সময় চট্টগ্রামের রাজপথে এবং মাঠে থেকে সংগঠনকে ও নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে উজ্জীবিত রেখেছিলেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। তিনি সব সময় অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জন্য পাশে থেকে কাজ করেছেন। দলের সকল স্থরের নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। দলের বিরোধীদের সাথে কখনও আপোষ বা মাথানত করেননি। কোন বিপদগ্রস্ত মানুষ তার কাছে গিয়ে কোন সাহায্য সহযোগিতা চাইলে তিনি তার সাধ্যমতো সেই সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন, তার কাছে মানুষ কোন কাজে গিয়ে সহযোগিতা পায়নি এমন নজির এখনও পর্যন্ত নেই। তিনি সব সময় ন্যায়ের পথে থেকে রাজনৈতিক পথ চলতে চেষ্টা করেছেন। চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধূরীর সংস্পর্শে থেকে চট্টগ্রামকে শুধু দিয়েই গেছেন। কিছু পাবেন সেটি কখনো চেষ্টা বা আশাও করেননি এই জনবান্ধব নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। তাইতো তিনি আজকে এতটা জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠতে পেরেছেন চট্টলার মানুষের কাছে।

হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বাবর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে আদর্শিত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ১৯৮৮ সালে নন্দনকানন ইউনিট ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। পর্যায়ক্রমে ১৯৮৯ সালে এনায়েত বাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে ওমরগণি এম.ই.এস. কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রসংসদ এর জি-এস নির্বাচিত, ১৯৯৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে গঠিত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ এর সদস্য, ২০১০ সালেও কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ এর সদস্য এবং ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ এর উপ-অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

হেলাল আকবর চৌধূরী বাবরের জীবন কাহিনী কোন কল্পকাহিনী নয়, তিনি উঠে এসেছেন রাজনীতির তৃনমূল থেকে এক আওয়ামী রাজনীতির ত্যাগী কর্মী হিসেবে। ১৯৮৯ সালে যখন সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী সহ অন্যান্য সিনিয়ার নেতাদের নির্দেশনা মোতাবেক আন্দোলনে রাজপথ নেতৃত্ব দিয়েছেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। তার বিশাল কর্মীবাহিনী তখন যেদিকে আন্দোলন সংগ্রাম করতো সেটিই সফল হতো। ১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে সুক্ষ কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি – জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই চার দলীয় জোটের ক্যাডার সন্ত্রাসীরা আওয়ামীলীগ কর্মীদের উপর নির্যাতন, খুন, গুম, শুরু করলো সাথে সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি জায়গা দখল সহ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে শুরু করে। চট্টগ্রামে তৎকালীন বিএনপির মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় নিটুল- ছুট্টু- জসিম- রূপা সহ আরো অনেকে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে মূর্তিয়মান আতংকে পরিণত হলো, তখন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এর নেতৃত্বে নন্দনকানন থেকে ছাত্রলীগ এর একটি অংশ নিটুল- ছুট্টুদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলো। বিএনপি জামাত জোটের অসহনীয় অত্যাচার ও কঠোরতা সত্বেও বাবরের বলিষ্ট নেতৃত্বের কারনে সেদিন রুখে দাঁড়িয়েছিল পুরো চট্টগ্রাম।

রাজনীতি করতে গিয়ে বাবর বিএনপি জামাত জোটের আমলে ৩৭ বার কারা বন্দী হয়েছেন। তাছাড়া এমনও দিন গেছে জেল থেকে মুক্তি পেয়েই আবার পরেরদিন সকালে গ্রেফতার হয়েছেন। কারণ তখন আওয়ামী রাজনীতির দঃখসময়ে বিএনপি জামাত জোটের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাজপথে একমাত্র নির্ভয়ে সোচ্চার ছিলেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। বিএনপি জামাত জোটের এত নির্যাতনের পরেও সেই সময় বাবর সংগঠনের হাল ছাড়েননি।

বিএনপি জামাত জোট বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। অনেক সময় অনেক বড় বড় লোভনীয় অফার ও সুযোগ আসলেও বাবর কোন সময় বিএনপি জামাতের সাথে আতাঁত বা আপোষ করেনি। একসময় চট্টগ্রামে শিবিরের দূর্গখ্যাত চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেষ্টুন লাগিয়ে জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত করে জামাত শিবিরের শক্ত ঘাটি ভেঙ্গে দিয়ে শিবির সন্ত্রাসীদের বিতারিত করতে সক্ষম হয়েছিলো এই হেলাল আকবর চৌধূরী বাবর। বীর চট্টলার সিংহ পুরুষ জননেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে ইতিমধ্যে সুনাম অর্জন করেছেন হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বাবর। তিনি এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল’র হাত ধরে তার বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে সংগঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আশা তিনি এভাবে মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন সারাজীবন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের মানুষের মধ্যে একটি স্বভাব হলো কেউ উপরে উঠতে চাইলে বা কেউ ভালো কিছু করতে চাইলে তাকে পেছন থেকে বা নিচে থেকে টেনে ধরতে হবে না হয় সে উপরে উঠে যাবে। ঠিক তেমনি হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকেও বেশ কয়েকবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্রে পড়তে হয়েছে। তেমন একটি ঘটনা হলো, নগরীর সি আর বি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একটি জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছিলো। সে মামলায় ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে আসামী করা হয় কিন্তু পিবিআই তদন্ত করে দেয়া মামলার চার্জশীটে স্পষ্ঠ বলেছেন এ ঘটনায় বাবর কোনভাবে জড়িত নয় এবং তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেবার জন্য সুপারিশও করে পিবিআই। সেদিন সিআরবির ঘটনায় বাবর দলীয় কোন্দলের বলি হয়েছিলেন বলেও মনে করেন অনেকে।

বিএনপি জামাত জোট ও দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা হাইব্রিড নেতা, সুসময়ের নেতা, খন্দকার মোশতাকদের বংশদরেরা তার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র করার পরও তিনি দলের জন্য, দলের নেতাকর্মীদের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি করোনা মহামারীর দূর্যোগে তার অবদানের কথা চট্টগ্রামবাসী মনে রাখবে আজীবন। তিনি যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন তা সবার জানা। বিশেষ করে করোনা প্রতিরোধকারী জিনিসপত্র নিয়ে শত শত করোনা বুথ স্থাপন করে তিনি সারা দেশের মানুষের নজর কেড়েছেন। তার থেকে দেখে অন্যরাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে এই মডেলের আদলে দেশ বিদেশে করোনা বুথ তৈরি করেছিলেন অনেকে। এজন্য তিনি সাধারণ মানুষ, সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও সাধুবাদ পেয়েছিলেন। তিনি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন দলের জন্য, দলের নেতাকর্মীদের জন্য সর্বোপরি সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাবেন জীবনের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত। জীবনে যত বড় বাঁধা যত বড় ঝড় আসুক না কেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক পথ চলা থেকে একমুহূর্তের জন্য বির্চূত হবেন না বলেও ঘোষণা করেন এই আওয়ামী ত্যাগী নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

ট্যাগ :