বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনার দুর্যোগে মানুষের পাশে মানবদরদী সফল ব্যক্তিত্ব দানবীর হাসান মাহমুদ চৌধুরী এবং কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন


প্রকাশের সময় :১৮ মে, ২০২০ ৮:৪৮ : পূর্বাহ্ণ

এম.এইচ মুরাদঃ

করোনা দুর্যোগে অসহায় হাজারো মানুষকে নিরবে নিভৃতে খাদ্যদ্রব্য ও অর্থ সাহায্য
বিতরণ করে শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যান সমিতির সভাপতি, কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান দানবীর আলহাজ্ব হাসান মাহমুদ চৌধুরী সিআইপি।

ছবিশিল্পপতি আলহাজ্ব হাসান মাহমুদ চৌধুরী সিআইপি

ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ২৪ হাজার পরিবারের কাছে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন। রমজান উপলক্ষে নগদ অর্থসহ এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে সংস্থাটি। ঈদ পর্যন্ত এই সহযোগীতা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নগরীর চান্দগাঁও থানা এবং চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এলাকায় মধ্যবিত্ত এবং কর্মহীন ২৪ হাজার পরিবারের মাঝে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসান মাহমুদ চৌধুরী সিআইপি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর রমজান মাসের চেয়ে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের থাবায় এবার রমজান শুরুর আগে মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি হয়ে যায়। তাই বিষয়টি মাথায় রেখে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে নগদ অর্থ ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।’

হাসান মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘অন্যান্য বছর রোজাদারদের ইফতার এবং কোরআন তেলোয়াত, কেরাত, হামদ-নাত প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয় এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। কিন্তু এবার করোনার কারণে মাহে রমজানে আমরা সেই আয়োজন করতে পারছি না। তাই নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগতভাবে এই কর্মসূচিকে দান-অনুদান মনে করছি না। দান অনুদান মনে করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা দায়ী থাকবো। এটি বিত্তবানদের কাছে বিত্তহীনদের সম্পদের যে অধিকার রয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় সম্পদ বন্টনের নীতিমালার অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি গ্রহণ করছি আমরা। ঈদ পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

একই সাথে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা ও পাশ্ববর্তী পাড়া মহল্লায়, মসজিদে সচেতনামূলক প্রচারণা, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, সড়কসমূহে জীবাণুনাশক পানি ছিটানোসহ নানামুখী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা জামে মসজিদের প্রবেশ মূখে মুসল্লিদের জন্য জীবানুনাশক টানেল স্হাপন করেছে কাশেম-নুর ফাউন্ডেশ যা চট্টগ্রামে প্রথম।

শুধু তাই নয় কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে করোনা রোগীর জন্য ৭২ বেডের ক্যারাভান হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হাসান মাহমুদ চৌধুরীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কে এন হারবার কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ক্যারাভানগুলোর সমন্বয়ে দেশের মানুষের চিকিৎসার স্বার্থে হাসপাতাল তৈরির চিন্তা করছে। যাতে রয়েছে ৭২ বেডের ক্যারাভান। দেশের যেকোন জায়গায় স্থানান্তরযোগ্য এ হাসপাতালে আরো থাকবে অফিস ক্যারাভান, রান্না ঘরের ক্যারাভান, খাওয়া-দাওয়ার ক্যারাভান, জরুরি বৈঠকের ক্যারাভান ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সমৃদ্ধ ক্যারাভান।

নিজের মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত কাশেম-নুর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হাসান মাহমুদ চৌধুরী নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবেও নিজস্ব অর্থায়নে তিনি অনেকগুলো সামাজিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি অকাতরে দান করে থাকেন। শুধু এবার নয়, বিগত বছরগুলোতে মানবতার সেবায় কাশেম-নুর ফাউন্ডেশন মানুষের বিপদ-আপদে যুক্ত থাকেন। তারই ধারবাহিকতায় তিনি এবার এই করোনা দুর্যোগেও দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কাশেম-নুর ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ চৌধুরী একাত্তর বাংলা নিউজকে বলেন, এই দুর্যোগ মোকাবেলা কেবল মাত্র সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে এই যুদ্ধে শামিল হতে হবে। দেশের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে এবং অধিকতর সেবাপ্রদানের লক্ষ্যে কে এন হারবার কনসোর্টিয়াম লিমিটেড করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে স্থানান্তরযোগ্য ক্যারাভান হাসপাতাল তৈরির চিন্তা করছে, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি সরকার এবং অন্যান্য ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অংশদারিত্ব কামনা করেন।

হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৭২ বেডের ক্যারাভান হাসডপাতালে আরো থাকবে অফিস ক্যারাভান, রান্না ঘরের ক্যারাভান, খাওয়া-দাওয়ার ক্যারাভান, জরুরি বৈঠকের ক্যারাভান ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সমৃদ্ধ ক্যারাভান। আলোচ্য ক্যারাভানগুলো সম্পূর্ণ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্যকর ও উপযোগী এবং সবগুলোই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আসবাবপত্র ও অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন সমৃদ্ধ। প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অধিক মূল্যের এই ক্যারাভানগুলো হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে এখনই করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সেবাপ্রদান সম্ভব। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদিত চিকিৎসা সামগ্রী যেমন- আইসোলেশন, আইসিইউ, ভ্যান্টিলাইজেশনসহ আনুষাঙ্গিক চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন।

চান্দগাঁও আবাসিকের বাসিন্দা আলী আকবর বলেন,’করোনার এই দুর্যোগে কাশেম-নূর ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে প্রায় ২৪ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন, ফ্রি এম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে সারা বছর নগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাসপাতালে রোগী পৌঁছে দেয় এবং দিচ্ছেন। এছাড়াও করোনা দূর্যোগে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতন হওয়ার জন্য লিফলেট, ফেস্টুন প্রকাশসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি রাস্তায় জীবানুনাশক ছিটানো ও ধুলাবালি মুক্ত পরিবেশ রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে এ ফাউন্ডেশন। দানবীর হাসান মাহমুদ চৌধুরী সিআইপি এর নিজস্ব অর্থায়নে এবং কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যেসব কর্মসূচী গ্রহণ করা হচ্ছে তা সত্যিই প্রসংসার দাবিদার। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি হাসান মাহমুদ চৌধুরী এবং কাশেম-নূর ফাউন্ডেশনের মত সমাজের বিত্তশালী মানুষ ও সংস্থাগুলো অসহায় মানুষের পাশে থাকলে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ করোনা সংকট কেটে যাবার পর ঠিকই ঘুরে দাড়াবে ইনশাআল্লাহ। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন হাসান মাহমদুদের মত দানবীরদের কবুল করে আরও বেশি মানুষের পাশে থাকার তাওফিক দান করুক এই দোয়াই করি।’

ট্যাগ :