বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আসামির ব্যতিক্রমী সাজা! পড়তে হবে বই খাওয়াতে হবে এতিমদের


প্রকাশের সময় :4 September, 2020 10:40 : AM

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ভিসা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের প্রতারণার মামলায় দোষী প্রমাণিত হলেও কারাগারে যেতে হচ্ছে না অভিযুক্ত আসামিকে। কারাবাসের বদলে তাকে বই পড়তে হবে। গাছ লাগাতে হবে। খাওয়াতে হবে এতিমদের। নিয়মিত পড়তে হবে নামাজ। মাদক থেকেও দূরে থাকতে হবে।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যতিক্রমী এ রায় দেওয়া হয়েছে। আসামিকে সংশোধনের সুযোগ দিতেই এ রায় দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার দেব। আইনের পরিভাষায় এটাকে বলে স্থগিত সাজা।

অভিযুক্ত আসামির নাম সুলতান আহমেদ। তিনি চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা গ্রহন করে ভিসা না দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। ৯ বছর মামলা চলার পর গত ২৪ আগস্ট এই রায় দেন বিচারক।

এই রায়ে খুশি বাদী-বিবাদী উভয়ই। রায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রবেশন কর্মকর্তা করে আসামিকে ১২টি শর্ত মেনে চলতে বলা হয়েছে। আসামি সব নির্দেশনা যথাযথভাবে মানছে কিনা প্রবেশন কর্মকর্তা সে ব্যাপারে প্রতি তিন মাস পরপর প্রতিবেদন দিয়ে জানাবেন আদালতকে। প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ ভোগ করতে হবে আসামিকে।

চকরিয়ার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হামিদুল্লাহ মিয়া বলেন, তাকে প্রবেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে আদালতের পাঠানো রায়ের অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। প্রতি তিনমাস পরপর আদালতে এ ব্যাপারে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবেন তিনি।’

কক্সবাজার জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, ‘কক্সবাজারে আমার জানা মতে এমন রায় প্রথম। আসামি সুলতান আহমেদকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে যে রায় দেওয়া হয়েছে, সেটি সমাজের আরও হাজারো মানুষকে নতুন একটা বার্তা দেবে। এ রায়কে তাই স্বাগত জানাই।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিপালন করতে আইনজীবী হিসেবেও ভূমিকা রাখব আমি।’

আসামি সুলতান আহমেদ বলেন, ‘সংশোধনের সুযোগ দেওয়ায় বিজ্ঞ বিচারকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এরই মধ্যে স্কুলের জন্য বই, বলপেন, জ্যামিতি বক্স ও খাতা আমি কিনেছি। দু-একদিনের মধ্যে এটা স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করব।

ট্যাগ :