মোস্টবেট বাংলাদেশের সেরা বুকমেকার। স্পোর্টস বেটিং, অনলাইন ক্যাসিনো সকলের জন্য সীমাবদ্ধতা ছাড়াই উপলব্ধ, এবং একটি ব্যাঙ্ক কার্ডে Mostbet withdrawal সম্ভব!
Türkiye'nin en iyi bahis şirketi Mostbet'tir: https://mostbet.info.tr/

বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪ ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হঠাৎ উত্তেজিত এমপি নদভী, ক্ষোভ ঝাড়লেন দলীয় নেতাদের উপর


প্রকাশের সময় :২৪ মার্চ, ২০২৩ ১০:৪৯ : অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এত দিন আকারে ইঙ্গিতে বিষয়টি টের পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু সেই রাখ-ঢাক আর থাকছে না। সম্প্রতি এক সভায় বিপ্লব বড়ুয়ার নাম ধরে সমালোচনা করেন নদভী।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে সরগরম আলোচনা চলছে চট্টগ্রাম সহ দেশের রাজনৈতিক অংঙ্গনেও। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে এই ধরনের দ্বন্দ্বের প্রকাশকে ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

গত ১০ই মার্চ শুক্রবার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চিববাড়ি এমএ মোতালেব কলেজের আইসিটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়। সেখানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিপ্লব বড়ুয়া ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব সিআইপি অতিথি হিসেবে থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য নদভী ছিলেন না। এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, ওই কলেজ ভবন তার চাহিদাপত্রের (ডিও লেটার) ভিত্তিতে নির্মিত হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা আবু রেজা নেজামুদ্দিন নদভী। এরই সূত্র ধরে লোহাগাড়া উপজেলার পাদুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসআই চৌধুরীর স্মরণ সভার বক্তৃতায় তাঁর কণ্ঠে সেই ক্ষোভ ঝরে আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর বিষেধাগারের মাধ্যমে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এমপি কে হবে, নমিনেশন কে পাবে, এটি প্রথমে আল্লাহর তদবিরের ব্যাপার। দ্বিতীয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা-নির্দেশনা। প্রধানমন্ত্রী যাকে দেবেন সেই নির্বাচন করবে। আমিও হতে পারি, অন্যজনও হতে পারে। ১০০ কোটি টাকা খরচ করব যারা বলেন—‘ওডা তুই ১০০ কোটি টাকা খরচ গইললে, আই এক হাজার কোটি টাকা খরচ গইজ্জম। হথা ইন কিইল্লায় হডদে (তুমি ১০০ কোটি টাকা খরচ করলে, আমি ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করব। কথাগুলো কেনো বলছো)।’

এই বক্তব্য দেওয়ার দুদিনের মাথায় গতকাল রোববার ওই কলেজের ভবন উদ্বোধনের ফলক ভেঙে ফেলা হয়। বিপ্লব বড়ুয়ার নাম ধরে নদভীর প্রকাশ্য বক্তব্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের নামফলক ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এরই মধ্যে ফেসবুকে দলের নেতা-কর্মীরা নদভীর ব্যাপক সমালোচনা করছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান সুইডেন প্রবাসী মো. জমির উদ্দিন ফেসবুকে বিপ্লব বড়ুয়াকে ট্যাগ করে লিখেন,‘অযোগ্য লোক যদি বেশি কিছু পেয়ে যায়, ধরাকে সরা মনে করে। ওনাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়া নাকি কেয়ামতের লক্ষণ। কত্তবড় আহাম্মক হলে এই কথা বলতে পারে। রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করতে না দেওয়ার ফল এইগুলি। জনসম্মুখে অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং সম্মানহানি করায় ওনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা দরকার। আমি দেশে থাকলে আমিই বাদী হয়ে মামলা করতাম।’

এছাড়াও আরেকটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্রীজের নির্মান কাজ পরিদর্শনে যান এমপি নদভী। সেসময় সেখানে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগ কর্মী ও প্রবাসী জসীম উদ্দিন নামের একজন ব্রীজের নির্মান কাজে নিম্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এমপি নদভীর কাছে অভিযোগ করলে তখন তার উপর ক্ষিপ্ত হন এমপি নদভী। এসময় তিনি বিভিন্ন অশালীন গালাগালির সাথে জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দিতে দেখা যায় সেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে।

উল্লেখ্য, লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি গঠিত। ১৯৭৩ সালের পর ২০১৪ সালে প্রথমবার এ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এর আগে এই আসনে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী এমপি ছিলেন। ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এমপি নদভী।

নিজের বাড়ির এই আসনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হওয়ার পর থেকে বিপ্লব বড়ুয়ারও কদর বাড়ছে। এই আসনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন তিনি। নদভী, বিপ্লব বড়ুয়া ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মোতালেব সিআইপি, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন সহ আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

মন্তব্যের বিষয়ে জানতে এমপি নদভীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে বিপ্লব বড়ুয়া এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন,‘দলে সব সময় ত্যাগী নেতাদের স্থান দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কেউ শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিলে সেটি দল মেনে নেবে না। এ রকম হলে ইতিপূর্বে দলের নীতিনির্ধারকেরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও আমরা দেখেছি। সুতরাং এই বিষয়ে আমরা এখন কোন মন্তব্য করতে পারছি না। দলের হাইকমান্ড এই ব্যাপারে অবগত আছেন। সুতরাং এই বিষয়ে জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

ট্যাগ :