বাংলাদেশ, বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

চুল পড়া রোগ, প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা


প্রকাশের সময় :২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১০:১৫ : পূর্বাহ্ণ

ডাঃ নুসরাত সুলতানাঃ

Alopecia (এলোপেশিয়া) মানে হলো এক ধরণের  চুল পড়া রোগ। Alopecia ৩ ধরণের হয়ে থাকে। যেমনঃ

1⃣এলোপেশিয়া এরিয়াটা (Alopecia areata) 

👉এই ক্ষেত্রে মাথার তালু, দাড়ি বা ভ্রু এর যে কোন এক বা একাধিক জায়গায় গুচ্ছাকারে গোল হয়ে চুল পড়ে যায়। চুল পড়া স্থানটি থাকে মসৃন। এলোপেশিয়া এরিয়াটা তে অনেক সময় নখের পরিবর্তন হতে পারে প্রাথমিক লক্ষ্মণ। এসময় পা ও হাতের নখে ছোট ছোট গর্ত (Pitting) ও খসখসে দাগ দেখা যায়। 

পড়ে যাওয়া চুল সাধারণত কয়েক মাসের ভিতর আবার গজায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই হেয়ার লস বা চুলের অনুপস্থিতি কয়েক মাস থেকে বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। 

👉কারণঃ 

এলোপেশিয়া এরিয়াটা ছোঁয়াচে কোন রোগ নয়। এটা কোন ইনফেকশন থেকেও হয়না। এটি একটি অটো ইমিউন রোগ। এক্ষেত্রে শরীরের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) চুলের গোড়ার ফলিকলকে(hair follicle) আক্রমণ করে এবং চুল পড়ে যায়। ব্যক্তির জিনগত গঠনই এর জন্য দায়ি। সাধারণত যে কোন সুস্থ মানুষেরই এলোপেশিয়া এরিয়াটা হতে পারে। যাদের এই রোগ হয়, তারা অন্যান্য অটো ইমিউন রোগের ঝুঁকিতেও থাকতে পারেন। যেমনঃ ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এর রোগ, শ্বেতি(Vitiligo), এজমা ইত্যাদি।

2⃣ এলোপেশিয়া টোটালিস (Alopecia totalis)

এই ক্ষেত্রে পুরো মাথায় সব চুল পড়ে যায়।

3⃣ এলোপেশিয়া ইউনিভার্সালিস (Alopecia  Universalis)

এ ক্ষেত্রে পুরো শরীরের সব চুল ও লোম (ভ্রু, চোখের পাপড়ি সহ) পড়ে যায়।

চুলের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকারঃ

শুষ্ক চুল: শুষ্কতার কারণে চুল দেখতে উশকোখুশকো ও অস্বাস্থ্যকর দেখায়। চুলের আগা ফেটে যায় এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। তাই চুল কোমল ও স্বাস্থ্যজ্জ্বোল রাখতে কিছুটা বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

অলিভ অয়েল, ডিমের সাদা অংশ, মেয়োনেইজ’য়ের মিশ্রণ চুল ও মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে চুল ময়েশ্চারাইজ হবে এবং আর্দ্রতা বজায় থাকবে। এর পাশাপাশি হেয়ার স্টাইলিং যেমন: স্ট্রেইটনার ও কার্লারের ব্যবহার, হেয়ার স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহারে লাগাম টানুন। হেয়ার স্প্রে’তে থাকা অ্যালকোহল এবং রাসায়নিক উপাদান চুল শুষ্ক করে ফেলতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বক: মানসিক চাপ, হতাশা, হরমোনের পরিবর্তন এবং চুলের যত্নের অভাবে চুল ও মাথার ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ও লেবুর রস মাথার ত্বক ও চুলের তেল নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর। মাথার ত্বকে পরিমাণ মতো অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ও লেবুর রস নিয়ে হালকা হাতে মালিশ করতে হবে। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে।

যদি হাতে সময় না থাকে এবং চটজলদি চুলের তৈলাক্তভাব দূর করতে চান তাহলে বেইকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে। মাথার ত্বকে খানিকটা বেইকিং সোডা ছড়িয়ে আলতোভাবে মালিশ করে নিলে তা মাথার ত্বকে জমে থাকা বাড়তি তেল শুষে নেবে।

মাথার ত্বক চুলকানো: অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক এবং খুশকির সমস্যা থাকলে মাথায় চুলাকানি ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। তাছাড়া নিয়মিত শ্যাম্পু না করলেও মাথার ত্বকে চুলকানি হতে পারে। কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে শ্যাম্পু করলে এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

এছাড়া মাথার ত্বকে অ্যালোভেরার জেল ঘষে নিলেও উপকার পাওয়া যায়। এতে থাকা ভিটামিন ই চুলের জন্য উপকারী।

খুশকি: মাথার ত্বকের খুবই পরিচিত সমস্যা খুশকি। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক ও ছত্রাক সংক্রমণের কারণে মাথায় খুশকি হতে পারে। মাথার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে বেশ উপকারী নারিকেল তেল। এতে মাথার ত্বক ও চুলে আর্দ্রতা জোগাবে এবং ছত্রাকের সংক্রমণও রোধ হবে। এছাড়াও ব্যবহার করা যায় টি ট্রি অয়েল। শ্যাম্পুর সঙ্গে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিলে খুশকি উপশম হবে।

চুল পড়া: প্রতিদিন কিছু সংখ্যক চুল পড়া স্বাভাবিক। ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়লে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে এর বেশি পড়তে শুরু করলে যত্ন নেওয়া উচিত। চুলের গোড়ায় পেঁয়াজের রস মালিশ করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। তাছাড়া চুলে অ্যালোভেরার জেল মেখে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করলেও উপকার পাওয়া যাবে।

💉💊 চিকিৎসাঃ

এলোপেশিয়া এরিয়াটাতে সাধারণত চুল নিজে নিজেই আবার কয়েক মাসের ভিতর গজায়। যদি তা না হয়, কিছু চিকিৎসা দেয়া যায়, যেমনঃ

১. কর্টিকোস্টেরয়েডঃ টপিকাল বা লাগানোর, ওরাল বা মুখে খাবার এবং ইন্ট্রালেশনাল বা আক্রান্ত জায়গায় ইঞ্জেকশন। 

২. মিনক্সিডিল ৫%

৩. এন্থ্রালিন

৪. ডাইফেনসাইপ্রোন 

৫. বায়োলজিক্স।।

পরামর্শেঃ

ডাঃ নুসরাত সুলতানা 

ক্লিনিক্যাল, কস্মেটিক ডার্মাটোলজিস্ট এন্ড লেজার স্পেশালিষ্ট।

ট্যাগ :