বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা রোধে স্বাস্থ্যবেষ্টনী গড়ে তোলার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের


প্রকাশের সময় :20 June, 2020 4:33 : PM

শাহনেওয়াজ খানঃ

দেশে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা। প্রাণহানিও বাড়ছে। প্রতিদিন সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে তাতে সামনের দিনগুলো হয়ে উঠবে আরও ভয়াবহ। সে আলামত এখন স্পষ্ট। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দ্রুত অবরুদ্ধ করে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং দেশে স্বাস্থ্যবেষ্টনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এরপর সংক্রমণে প্রথম মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয় ১৮ মার্চ। গত ৬ এপ্রিল থেকে দেশে প্রতিদিনই করোনায় মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। তবে ৯ মে পর্যন্ত প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা দশের নিচেই ছিল। সংক্রমণের দশম সপ্তাহে প্রতিদিন রোগী শনাক্তের গড় ছিল ১ হাজার ৩২। আর ১৪তম সপ্তাহে এসে দিনে শনাক্তের গড় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৭০ জন।

চতুর্থ মাসে দেশে করোনা সংক্রমণ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। চতুর্থ মাসের প্রথম ৮ দিনে দৈনিক গড় মৃত্যু প্রায় ৪২। এছাড়া প্রতিদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর খবর আসছে। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন যাদের বেশির ভাগেরই নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা বলতে গেলে ঢিলেঢালা। দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞ পরামর্শকদের মতে, সংক্রমণ ও মৃত্যু যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে কালবিলম্ব না করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেওয়া দরকার। তা না হলে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাবে।

আইইডিসিআরের পরামর্শক রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুই-ই আরও বাড়বে। সামনে উদ্বেগের সময় আসছে। সংক্রমণ আপনা আপনি কমে যাবে না। সংক্রমণ বন্ধের জন্য যথাযথভাবে উদ্যোগ নিতে হবে এবং তা এখনই। বাস্তবতা বিবেচনায় একবারে সারা দেশে লকডাউন দেওয়া হয়তো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করে অবিলম্বে কার্যকর লকডাউন দিতে হবে বা স্বাস্থ্যবেষ্টনী তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে সংক্রমণ কমে গিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের একেবারে চূড়ান্ত পর্যায় চলছে। এটা এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি এলাকায় শুধু যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়াই লকডাউন নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকার সব আক্রান্ত রোগীকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের ১৪ দিন আলাদা করে রাখতে হবে যাতে তারা অন্যের সংস্পর্শে না যান। করোনা উপসর্গ উপস্থিত থাক বা না থাক, যাদের সন্দেহ হবে তাদের পরীক্ষা করতে হবে। মোট ২৮ দিন এভাবে চলার পর আরও ১০ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বর্তমানে অবরোধ বা লকডাউন যেভাবে দেওয়া হচ্ছে তাতে কী ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা খোলাসা করা উচিত। শুধু যাতায়াত বন্ধ করে দিয়ে কোনো ফল পাওয়া যাবে না।

ট্যাগ :