বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২ ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাড়তি ভ্যাটের কারণে রডের দাম আরও বাড়তে পারে


প্রকাশের সময় :১৩ জুন, ২০২২ ৩:৫৯ : পূর্বাহ্ণ

মোরশেদুল হক আকবরীঃ

এবারের বাজেটে রড তৈরির কাঁচামালে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাজারে রডের উত্তাপ আরও ছড়াবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে খুচরা পর্যায়ে কাঁচামাল সংগ্রহে ভ্যাট বাড়ানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রড। এর দাম বাড়লে রাস্তাঘাট ব্রিজ, কালভার্টসহ অবকাঠামো উন্নয়নকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজেটে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঁচামাল স্ক্র্যাপ (পুরোনো লোহা) সংগ্রহের ওপর প্রতি টনে ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত মেলটেব বা গলানো স্ক্র্যাপে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার টাকা।

এ ছাড়া গর্দা বা মেলটেব থেকে প্রস্তুতকৃত অন্তর্বর্তীকালীন কাঁচামাল হিসেবে পরিচিত বিলেট ও ইনগটের জন্য ভ্যাট নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ২০০ টাকা, যা আগে ছিল ২ হাজার টাকা।

রড ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি ভ্যাটের কারণে প্রতি টন রডের বর্তমান যা দাম, তার চেয়ে আরও ১ হাজার টাকা যোগ হবে। বাজারে এখন প্রতি টন রড ৮৪ থেকে ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রডের প্রধান কাঁচামাল পুরোনো লোহালক্কড় বা স্ক্র্যাপ আমদানি করে তা রি-রোলিং মিলে গলিয়ে রড তৈরি করা হয়।

৩০ শতাংশ স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করা হয় অভ্যন্তরীণভাবে। ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী ও পুরাতন জাহাজ কেটে তা থেকে স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করা হয়। আর বাকি ৭০ শতাংশ স্ক্র্যাপ আমদানি করা হয়। নতুন বাজেটে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়, তার ওপর ভ্যাট বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে।

মিলমালিকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টন। এর মধ্যে সরকারি উন্নয়নকাজে ব্যবহার হয় ৬০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ বেসরকারি খাতে।

দেশে রি-রোলিং মিলের সংখ্যা ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩০টি। এর মধ্যে বড় আকারের ৫০টি। বাকিগুলো ছোট ও মাঝারি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ স্টিল মিলস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসাদুল আলম বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে লক্ষাধিক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আছেন, যাদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করেন মিলমালিকরা। ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের কোনো ভ্যাট নিবন্ধন নেই। এরা যে বেচাকেনা করে, তাতে কোনো রেকর্ড থাকে না। ফলে কোনো রেয়াত মিলবে না। এই স্তরে ভ্যাট বাড়ানোর ফলে বাজারে রডের দামে প্রভাবিত হবে, যা প্রকারান্তরে ভোক্তার ওপর চাপ ফেলবে।’

ট্যাগ :