বাংলাদেশ, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বছর শেষ হলেই দৌরাত্ম্য বাড়ে বাড়িওয়ালাদের!! শঙ্কায় থাকে ভাড়াটিয়ারা


প্রকাশের সময় :২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৫:৪৪ : অপরাহ্ণ

এম.এইচ মুরাদ:

চট্টগ্রাম নগরীতে বাড়ির মালিকদের হাতে কার্যত জিম্মি বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া। প্রচলিত আইন না মেনে বছর শেষ হলেই বাড়ানো হয় বাড়ি ভাড়া। এ কারণে ডিসেম্বর মাস এলেই ভাড়াটিয়ারা শঙ্কায় থাকেন, এই বুঝি বাড়িওয়ালা কোন না কোন অজুহাতে বাসা ছেড়ে দিতে বলবেন, অথবা সামনের মাস থেকে ভাড়া হাজার দুয়েক বাড়িয়ে দিতে বলবেন। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, ‘নতুন বছরের শুরুতে বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর একটা প্রবণতা চালু হয়ে গেছে চট্টগ্রামে। বর্ধিতহারে ভাড়া গুনতে পারলে থাকো, নয়তো বাসা ছেড়ে দাও-এ হুমকি বাড়িওয়ালাদের খুব প্রিয় একটি সংলাপ।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে না থাকায় আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে জীবন নির্বাহে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এর ফলে নগরীতে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে ভাড়াটিয়াদের সম্পূর্ণ রূপে বাড়ির মালিকদের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে অনেক বাড়ির মালিক বাড়িভাড়া থেকে আয় কম দেখিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন।

ভাড়াটিয়া বাছাই করতে গিয়ে বাড়িওয়ালারা অনেক বাড়বাড়ি করেন। কেউ ব্যাচেলর ভাড়া দেন না, কেউবা বাচ্চাকাচ্চা পছন্দ করেন না। এছাড়া ভাড়াটিয়ার পেশাটাও বাড়িওয়ালার মনমতো হওয়া চাই। এসব ওজোর আপত্তি ডিঙিয়ে যদিওবা বাড়ির মালিকের কৃপা হয়, পরমুহূর্তে এ্যাডভান্সের টাকার অংক শুনে ভাড়াটিয়ার চোখে সর্ষে ফুল ফুটে। আইনে দুই মাসের ভাড়ার সমান টাকা এ্যাডভান্স হিসেবে নেওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু বাড়িওয়ালাকে সে নিয়ম মানতে বাধ্য করবে কে? বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে অগ্রিম দিতে হবে এটাই নিয়ম। কিন্তু কতো তা জানা নেই কারো। সর্বনিম্ন ছয় মাসের, সর্বোচ্চ এক বছরের এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আরো বেশি মাসের ভাড়া গুঁজে দিতে হয় বাড়িওয়ালার হাতে। নিয়ন্ত্রণহীণ বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি জানান নগরীর জনসাধারণ। তারা বলেন, আমাদের কাছে বছরে দুইবার ভাড়া বাড়ানোর অনেক তথ্য প্রমাণ আছে। বাড়িভাড়া সংক্রান্ত যে আইন আছে, তা কঠোর নয়। এক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

ভাড়াটিয়ার অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এবং বাড়িওয়ালাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আইন আছে। আইনে বলা হয়েছে ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ বাড়ির বাজার মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না (ধারা ১৫ (১)। যদি বাড়িওয়ালা অতিরিক্ত ভাড়া নেন তাহলে আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ জরিমানা তাকে গুণতে হবে। এরপরও যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়, তাহলে প্রতিবার বাড়িওয়ালাকে আদায়কৃত টাকার তিনগুণ জরিমানা দিতে হবে। অগ্রিম হিসেবে এক মাসের ভাড়ার টাকার অতিরিক্ত নেয়া যাবে না। অতিরিক্ত নেয়া হলে এ টাকার দ্বিগুণ এবং পরবর্তীতেও নেয়া হলে ঐ টাকার তিন গুণ জরিমানা দিতে হবে। অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া ছাড়া যেকোন ধরনের জামানত নেয়া নিষিদ্ধ।
যোগাযোগ সুবিধা সম্বলিত বাসাগুলোর ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জামালখান, হেমসেন লেইন, আন্দরকিল্লা, পাথরঘাটা, এনায়েতবাজার, লালখান বাজার, চন্দনপুরা, চকবাজার, মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং, সল্টগোলা, ইপিজেড এলাকায় বাড়ি ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাকলিয়া বউবাজার এলাকায় ১৮০০ টাকা দিয়ে একটা রুম ভাড়া করে থাকেন তিন গার্মেন্টস কর্মী রূপা, আয়েশা ও বিউটি। প্রত্যেকে ৬০০ টাকা করে দেয়। নতুন বছর আসতেই তাদের মধ্যে ভয় ঢুকেছে, কারণ বাড়িওয়ালা ঘর ছেড়ে দিতে বলেছে। তার নাকি ঘর লাগবে। এ সময় মেয়েরা একাকী থাকতে গেলে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। অভিাবকের খোঁজ করে বাড়ির মালিক।

বিষয়টি স্বীকার করে ক্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবকিছুর দাম বাড়ছে। এসবের লাগাম টানতে দেশে বিভিন্ন আইন থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। তাই বাড়ির মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে। আর দোকানিরা ইচ্ছেমতো নিচ্ছে জিনিসের দাম।

ট্যাগ :