বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় ও পারিবারিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ


প্রকাশের সময় :৩১ জুলাই, ২০২১ ৪:২৭ : পূর্বাহ্ণ

তপন কান্তি ধরঃ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হলেও মানুষের নৈতিক উন্নতি ঠিক একই কায়দায় অগ্রগতি হয়নি। হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ লালসার বেড়াজালে বন্দি হয়ে আছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব কিছু মানুষ। ফলে সামাজিক কলহ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে আর মানুষের মেলবন্ধন ও সামাজিক ভীতকে ভঙ্গুর করে তুলছে। কিছু সংখ্যক খারাপ মানুষের জন্য সমাজের পরতে পরতে বিরাজ করছে অন্যায় অবিচার নিপীড়ন। এক শ্রেণির মানুষ মনুষ্যত্ববোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের মাঝে পশুবৃত্তি জাগিয়ে তুলছে আর তারাই সমাজ দেশ জাতি সর্বোপরি মানবতাবোধের কপালে কলঙ্কের তিলক লেপন করছে। ইদানীং পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, গুম দেদারসে বেড়েই চলছে। সরকার এবং প্রসাশনের কঠোর নজরদারি ও আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও অনেক সময় তা নির্মূল করতে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। আর এই সমস্ত অপরাধের উত্থানের শুরুতে যদি ঐসব অপরাধীকে পরিবার থেকে শাসন এবং পরিবারের কর্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো তাহলে আর এই সমস্ত কিশোর গ্যাং বা অপরাধীর সৃষ্টি হতো না অথবা অনেকাংশে কমে যেতো।

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ চিহ্নিতকরণ ও তা প্রতিরোধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, পারিবারিক কলহ, রাজনৈতিক আদর্শ শূন্যতা, সীমাহীন লোভ, অসম প্রতিযোগিতাই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ।

সন্তানদের পার্থিব শিক্ষাদানে আমরা যত বেশি পেরেশান তার সিকি ভাগও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য পেরেশান নই। ফলে প্রজন্ম গড়ে উঠছে ধর্মীয় শিক্ষাবিহীন বা আদর্শবিহীন। খেয়াল করলে দেখবেন গত কয়েক যুগ থেকে দেশে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে কিশোর অপরাধ। কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধে। হত্যা ধর্ষণ চুরি ডাকাতি অপহরণসহ হেন অপরাধ নেই যা কিশোররা করছে না। তাদের ছোট্ট মননে যদি ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা যেত তাহলে সমাজ এই সমস্ত ঘৃণ্য অপরাধ থেকে রক্ষা পেত। যুব সমাজ অনেক সময় নোংরা রাজনীতির দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক নেতারা বারবার এদের ব্যবহার করে নিজেদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে। প্রতিপক্ষ শক্তিকে ঘায়েল করতে এই যুব সমাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। হারিয়ে যাচ্ছে অনৈতিকতার অতল গহ্বরে। সমাজ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে বেড়ে চলছে অপরাধপ্রবণতা।

অন্যদিকে মাদকের ব্যাপক প্রসারের কারণে যুব সমাজ নেশাগ্রস্ত হয়ে নিজেদের মূল্যবান জীবন যৌবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক যেন ভয়াবহ একটি মানব বিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মাদকের উৎসমূলে আঘাত হানতে দেরি করলে আমাদের বিশাল ক্ষতির জের গুনতে হবে। যুব সমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সময় ক্ষেপণের সুযোগ নেই। মাদক আমদানি বিপণন সেবনের আইনকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে। আইনের যথাযথ বাস্তবায়নই পারে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে। যুব সমাজকে সীমাহীন নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের পারিবারিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি মোটিভেশনমূলক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সন্ত্রাস মাদক অপসংস্কৃতিসহ নৈতিক অবক্ষয়ের সকল দ্বার বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ও। পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলদের স্বচ্ছ কমিটমেন্টই পারে অধঃপতিত যুব সমাজকে আলোর পথ দেখাতে।

ট্যাগ :