বাংলাদেশ, শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২ ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (কঃ) এর পবিত্র উরস মোবারক


প্রকাশের সময় :৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১০:০৯ : পূর্বাহ্ণ

এস.এম মাঈন উদ্দীন রুবেলঃ

৬ রজব প্রাক ভারত উপমহাদেশের ইসলাম প্রচারক আওলাদে রাসূল (সাঃ), আতায়ে রাসূল (সাঃ) সুলতানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগান, হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী হাছান সঞ্জেরী আজমিরী (কঃ) এর পবিত্র উরস মোবারক পুরো বিশ্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে কিংবদন্তিতুল্য একজন ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বীয় পীর উসমান হারুনীর নির্দেশে ভারতে আগমন করে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তারই মাধ্যমে বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন।তার বিখ্যাত একটি গ্রন্থ হল “আনিসুল আরওয়াহ”।

এই উপমহাদেশে খাজা গরীব নেওয়াজ (রাঃ) এর কারামত সবচেয়ে বড় ও বেশী প্রসিদ্ধ। খাজা গরীব নেওয়াজকে বিভিন্নভাবে এখান থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে যখন তৎকালীন রাজা ব্যার্থ হন তখন চিন্তা করেন তাকে অদৃশ্য শক্তি দিয়ে পরাহত করতে হবে। তখন অনেক বড় বড় জাদুকর ছিল যাদের জাদুর প্রভাব অনেক গভীর ছিল। তারা খাজা গরীব নেওয়াজের উপর যাদু চালনা করতে চেষ্টা করেছে কিন্তু যাদুমন্ত্র কাজ করেনি। এমনকি পৃথ্বীরাজে আপন ভাই অজয় পাল যিনি এই বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ট ছিলেন তিনি সেক্ষেত্রে অক্ষম হন এবং ক্ষমা চেয়ে খাজা গরীব নেওয়াজ (রাঃ) এর কাছে কলেমা পড়ে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন। খাজা তার নাম রেখে দেন ‘আব্দুল্লাহ’।

একবার বাদশাহ আওরঙ্গজেব যিনি বাদশাহ আলমগীর নামে পরিচিত তিনি আজমীর শরীফ গমন করে সালাম দিয়ে বলেন যে, খাজা যদি সালামের উত্তর না দেন তাহলে তিনি মাযার ধ্বংস করবেন। তখন খাজা সালামের উত্তর দেন যা বাদশাহ আলমগীর নিজ কানে শুনতে পান। তিনি তার দুঃসাহসের জন্য এরপর অনুতাপ করেছিলেন।
আজও যদি খাজা গরীব নেওয়াজের রওজা শরীফে গিয়ে যদি খাছ দিলে উনার উছিলায় আল্লাহর কাছে কিছু চায় আল্লাহ তখন তা কবুল করে অবশ্যই দান করেন। মনে রাখা কর্তব্য আউলিয়াগণের এইসব ক্ষমতা আল্লাহরই দানের অন্তর্ভূক্ত।

হযরত খাজা গরীব নেওয়াজ আল্লাহ প্রদত্ত তার অলৌকিক কেরামতের মাধ্যমে ৯০ লক্ষ অমুসলিমকে কালেমার ছায়াতলে এনে এই ভারত উপমহাদেশে ইসলামের প্রতাকা উড্ডয়ন করছেন। যার অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে আজ আমরা এদেশে ইসলাম পেয়েছি। যে কারণে আজ এ ভারত মহাদেশে ইসলামের সুবাতাস বইছে। আজ আমরা সেই মহান আল্লাহর অলিদের অস্বীকার করে বসি। তাদের কৃতকর্মের কথা ভূলে যায়। এদেশে ইসলাম এনেছে একমাত্র আউলিয়া কেরামরা। কোন নবী-রসূল, সাহাবায়ে কেরাম ভারত উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার করতে আসেননি। এখানে ইসলাম প্রচার করেছেন একমাত্র আল্লাহর আউলিয়া কেরামগন।
আল্লাহপাক আমাদেরকে এই মহান অলীর পবিত্র ফয়েজ নসীব করুন এবং আমাদেরকে তাঁর প্রিয় অলীর পদাঙ্ক যথাযথ অনুসরণের তৌফিক দান করুন, আমীন!

সুলতান-উল-হিন্দ, খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (উর্দু/معین الدین چشتی) (ফার্সি: چشتی‎‎,উর্দু: چشتی‎‎ – Čištī) (আরবি: ششتى‎‎ – চিশতী) হলেন চিশতীয় তরিকার ধারার ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুফি সাধক। তিনি ১১৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১২৩৫ সালে পরলোকগমন করেন। তিনি গরিবে নেওয়াজ (غریب نواز) নামেও পরিচিত কারণ তিনি সবসময়ই গরীবের দরদী ছিলেন এবং তাদের ভালোবাসতেন। মইনুদ্দিন চিশতী (রাঃ) উপমহাদেশে প্রথম চিশতীয়া তরিকা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত করেন। মূলত আফগানিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ায় এই তরিকার অনুসরণ করা হয়। এটি প্রথম চারটি প্রধান সুফি তরিকার (চিশতিয়া, কাদেরিয়া, মোজাদ্দেদীয়া ও নকশবন্দি) অন্যতম। ১২ শতকের মধ্যভাগে হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি লাহোর ও আজমিরে এই তরিকা প্রতিষ্ঠা করেন। চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা আবু ইশক শামির পর তিনি এই ধারার অষ্টম ব্যক্তি। তিনি ভারতে চিশতী ধারার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ধারা বা সিলসিলা এমনভাবে পরিচিত করেন ;পরবর্তীতে তার অনুসারীরা যেমন, হযরত কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী (রাঃ), বাবা শেখ ফরিদ (রঃ), হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া সহ (প্রত্যেকে ক্রমানুযায়ী পূর্ববর্তীজনের শিষ্য) আরও অনেকে ভারতের ইতিহাসে সুফি ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।

ট্যাগ :