বাংলাদেশ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রিজিক বৃদ্ধিতে কোন পথ অবলম্বন করবেন?


প্রকাশের সময় :6 August, 2020 4:28 : AM

মাওলানা আনোয়ার হোসেনঃ

রিজিকের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা।  তিনি যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিজিক দান করেন আবার যাকে ইচ্ছে তা কমিয়ে দেন। তাই আমাদের উচিত সব সময় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কাজ করা যাতে তিনি আমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেন।  আর সেই সব কাছ থেকে দূরে থাকা যার কারণে রাব্বুল আলামিন আমাদের রিজিক কমিয়ে দেন। আজকে আমরা জানার চেষ্টা করব কি কি কারণে আমাদের রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং কমে যায়।

রিজিক বৃদ্ধিঃ

মুসলমানদের জন্য বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট ব্রাউজার সালামওয়েব ব্রাউজার পরিবেশিত এই নিবন্ধটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। একুশ শতকের মুসলমানদের জীবনযাপনে সহায়তা ও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি আমরা।

*তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা: আল্লাহকে ভয় করা,  তার তাঁর  দিক নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন যাপন করা,  আল্লাহর ওপর শতভাগ বিশ্বাস স্থাপন করা এবং রিজিকের জন্য তার কাছে নিয়মিতভাবে প্রার্থনা করা। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেনঃ ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ {সূরা আত-তালাক, আয়াত : ২-৩}

তাওবা ও ইস্তেগফার করা: অধিক পরিমাণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।  অতীতের কোন ভুলের জন্য মনের গভীরতম স্থান থেকে আন্তরিকতার সাথে বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তওবা করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেনঃ ‘আর বলেছি, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল’। (তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে) ‘তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ‘আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’। {সূরা নূহ, আয়াত : ১০-১২}

আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাঃ আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রাখা,  তাদের হক আদায় করা,  সুখে দুঃখে আন্তরিকতার সাথে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেও আল্লাহর রিজিক প্রাপ্তির  দুয়ার খুলে যায়।আনাস ইবন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ [বুখারী : ৫৯৮৫; মুসলিম : ৪৬৩৯]

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করাঃ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা মাধ্যমেও রিজিক বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ বলেনঃ ‘বল, ‘নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিযকদাতা।’ {সূরা আস-সাবা’, আয়াত : ৩৯}

দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া বা সদাচার করাঃদুর্বলের প্রতি সবসময় সদয় এবং তার সাথে সদাচরণ করা উচিত।  কারণ আল্লাহ তা খুবই পছন্দ করেন।  এর ভেতর দিয়ে রিজিক বৃদ্ধি পায়।

রিজিক কমে যাওয়াঃ
বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে রিজিক কমে যেতে পারে।

অকৃতজ্ঞতা:রিজিক কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো অকৃতজ্ঞতা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের যে নেয়ামত দান করেছেন,  তার প্রতি শুকরিয়া আদায় না করে অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে আমাদের রিজিক কমে যায়।  কারণ আল্লাহ অকৃতজ্ঞদের পছন্দ করেন না।  পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ বলেনঃ ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে মনে রেখো, আমার শাস্তি বড়ই কঠোর।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

গুনাহ : রিজিকে বরকত আসার জন্য আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস এবং তাকওয়া অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরী। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আর যদি জনপদগুলোর অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও জমিন থেকে বরকতগুলো তাদের ওপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত, তার কারণে আমি তাদের পাকড়াও করলাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)। আমরা যখন নিয়মিতভাবে গুনাহ করতে থাকি তখন আমাদের ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে ফলে আমরা সহজেই ভুল পথে পরিচালিত হই।

সুদ : সুদ মানুষের উপার্জনকে করে দেয় । একজন মানুষের স্বভাব চরিত্র সবচেয়ে বড় কথা অন্তর্গত পরিবর্তন চলে আসে। সুরা বাকারার ২৭৮-২৭৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের যে সুদ বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা ঈমানদার হও। যদি তোমরা এমন না করো তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।’ আল্লাহ সুদের কারণে বান্দার রিজিক কমিয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ সুদকে হ্রাস করেন এবং সদকাকে বর্ধিত করেন। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৬) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, সুদ সম্পদের বরকত নষ্ট করে দেয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে জাতির মধ্যে সুদ প্রসারিত হয় তারা অবশ্যই দুর্ভিক্ষে নিপতিত হয়।

পরোক্ষ আলোচনায় বেশ  কিছু পয়েন্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম কি কি কাজ করলে আমাদের রুচি বৃদ্ধি পাবে এবং কি কি কাজ করলে আমাদের রিজিক কমে যাবে।  মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে তৌফিক দান করুক আমরা যেন সব সময় রিজিক বৃদ্ধির পথে চলতে পারি।

ট্যাগ :